A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

চার ছক্কার বিশ্ব জয় | Probe News

12

প্রোবনিউজ, ঢাকা: শুক্রবার ছুটির দিনে ঝিকাতলা বিজিবি গেটের সামনে রাস্তা জুড়ে ফ্ল্যাশ মবে অংশ নেয় বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে শংকর পর্যন্ত পুরো এলাকায় যানজট লেগে যায়। বাঁশি বাজিয়ে রাগে কটমট করতে করতে ভিড় ঢেলে এগিয়ে এলেন এক পুলিশ অফিসার। কিন্তু অবাক কান্ড, মবের দৃশ্য দেখে ফিক্ করে হেসে বললেন, ‘ও তোমরা, চার ছক্কা, ঠিক আছে ঠিক আছে। একটু তাড়াতাড়ি শেষ করো।’ এ সময় বাসযাত্রীদের মধ্যেও ছিল না কোন বিরক্তি। নাচে সরাসরি অংশ না নিলেও তারাও যেন ওই মুহূর্তের জন্য হয়ে গেলেন ফ্ল্যাশ মবের অংশ, চার ছক্কার সমর্থক।
নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘রাইপাবলিকান’ উদ্যোগে শতাধিক ছাত্রছাত্রী এ মবে অংশ নেয়। একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী ঈহা অবাপ্তি জানায়, ‘এ এক অন্যরকম অনুভ’তি। এই প্রথম রাস্তায় প্রকাশ্যে নাচে অংশ নিয়েছি। অসংখ্য মানুষ ভিড় করে দেখেছে। আমাদের সঙ্গে সঙ্গে তারাও আনন্দ পেয়েছে। আসলে চার ছক্কা গানটিই আমাকে রাস্তায় টেনে এনেছে। ’
Pantho kanai‘যখন গানের রেকর্ডিংয়ে অংশ নেই অনেক এক্সসাইটেড ছিলাম। কারণ, এরকম একটি আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশ নেয়া যে কারও জন্য গৌরবের। তখনও জানতাম না যে ফ্ল্যাশ মবের মাধ্যমে গানটি সারা বিশ্বে এতো আলোড়ন তুলবে। সত্যি আমার জীবনে এটা বড় একটা রেকর্ড।’ ফ্ল্যাশ মবের মাধ্যমে চার ছক্কার জয়জয়কার সম্পর্কে বললেন গায়ক পান্থ কানাই।
‘চার ছক্কা হই হই’ কেবল ঢাকায়ই নয় দেশের সর্বত্র তরুণ-তরুণীদের কন্ঠে একই সুর এবং এখন তা দেশের সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের সর্বত্র।
টি টোয়েন্টির থিম সং চার ছক্কার হইহই- এর সুর করেছেন ফুয়াদ আল মুক্তাদির । কন্ঠ দিয়েছেন কনা, এলিটার আর পান্থ কানাই।
ফুয়াদ যখন টি টোয়েন্টির থিম সংটির সুর তৈরি করছিলেন তখনও সম্ভবত কেউই কল্পনা করেননি এবার টি টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ডকাপকেও ছাপিয়ে যাবে থিম সংটি। কেউ ভাবতে পারেন নি তরুণ তরুণীদেওর নাচে ভর করে সেটি পেরিয়ে যাবে দেশের সীমানা।
ঝিগাতলার সীমান্ত স্কয়ার থেকে নিউ ইয়র্কের টাইম স্কয়ার- সবখানে নাচের ভাষা এখন চার ছক্কা হইহই। কনা, এলিটা ও পান্থ কানাইয়ের কণ্ঠের সঙ্গে নৃত্যরত তরুণদের ভিডিওচিত্রগুলো দেশের সীমানা ছাড়িয়ে সাড়া ফেলেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।
ভারতের সংবাদ মাধ্যম জি-নিউজ ১৯ মার্চ শিরোনাম করে— ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির ‘বাংলা’ গান লোপেজ, পিটবুলের ফুটবল বিশ্বকাপের গানকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম অনলাইন সংবাদমাধ্যম কুরিয়ারমেইল ডটকম ডট এইউ’র শিরোনাম ‘শুনুন আইসিসি ওয়ার্ল্ড টোয়েন্টি-টোয়েন্টি’র অফিসিয়াল থিম সং ‘চার ছক্কা হইহই।’
সারাবিশ্বে এই গানের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ ‘ফ্ল্যাশ মব’ বলে মনে করেন বিজ্ঞাপনী সংস্থা গ্রে’র অপারেশন এক্সিকিউটিভ মাহবুবুর রহমান শাকিল। সেই সঙ্গে গানে রয়েছে উত্তেজনা ছড়ানোর মতো ছন্দ।
Fuad-Al-Muktadir‘চার-ছক্কা’ গানের তালে তৈরি প্রথম ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্ল্যাশ মব ভিডিও চিত্রগুলো গ্রে’র তত্ত্বাবধানে তৈরি।

এ ব্যাপারে শাকিল বলেন, “তরুণদের মধ্যে ক্রিকেটের উত্তেজনা ছড়িয়ে দিতে আমরা আইসিসির কাছে এই ফ্ল্যাশ মব ভিডিওচিত্র তৈরির প্রস্তাব করি। প্রতিযোগিতামূলক এই ভিডিওচিত্র নির্মাণে আইসিসি রাজি হলে প্রাথমিকভাবে আমরা ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের মোট ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রস্তাব দেই।”
শাকিল জানান, ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আছে রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও এনাম মেডিকেল কলেজ। বুয়েট প্রথমে রাজি হয়েও বিভিন্ন সমস্যার কারণে এই কার্যক্রমে অংশ নেয়নি।
বন্দরনগরীর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অংশ নেয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইস্ট ডেলটা ইউনিভার্সিটি। সিলেটের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ।
শাকিল বলেন, “আমাদের কোরিওগ্রাফাররা নাচের প্রাথমিক মুদ্রাগুলো দেখিয়ে দিলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই নিজেদের উদ্যোগে ফ্ল্যাশ মবগুলো তৈরি করে জমা দেয়।” ফ্ল্যাশ মব ভিডিওর অচিন্তনীয় সাড়ার বিষয়ে শাকিল বলেন, “ভিডিওচিত্রগুলো হাতে পাওয়ার পর ৪ মার্চ আমরা আইসিসির কাছে জমা দেই। ৬ তারিখের দিকে আইসিসির ওয়েবসাইটে ভিডিওগুলো প্রকাশ করা হয়। অল্পদিনেই এমন সাড়া পড়ল, কী আর বলব!”
তিনি আরও বলেন, “এখন তো ব্যক্তিগত উদ্যোগেও তৈরি হচ্ছে ফ্ল্যাশ মব ভিডিও। সেগুলো আমাদের কাছে জমাও পড়ছে। এতগুলো ভিডিও নিয়ে আমরা কী করব তা এখনও ভাবিনি। তবে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যারাই ভিডিও বানিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তাদের অন্তত আইসিসির পক্ষ থেকে একটি ধন্যবাদপত্র দেওয়ার চেষ্টা করব আমরা।”
flash 2ইউটিউব খুললেই দেখা যায় বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্রছাত্রীদের অংশ নেয়া গান ও নৃত্যেও ক্লিপিং। উল্লেখ্য ,এ পর্যন্ত ইউটিউবের দর্শক র্যাঙ্কিংয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্ল্যাশ মবের ভিডিওটি প্রথমস্থান দখল করে রেখেছে।
ফ্ল্যাশ মবে অংশ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র নাসিরউদ্দিন বলেন, “আসলে বিতর্কের বাইরে কিছু একটা করতে গিয়েই এই কাজটা করা। তাছাড়া টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ডকাপ বলে কথা।”
এক প্রশ্নের জবাবে নাসির বলেন, “আসলে পুরো ব্যাপারটার মধ্যে ক্রিকেটের উত্তেজনা কাজ করেছে। কোনো অডিশনের ব্যবস্থা করা হয়নি। উৎসাহী সবাই অংশ নিয়েছে। মাত্র দুদিনের প্র্যাকটিস করে এই ভিডিও তৈরি করি আমরা।”
এই প্রতিবেদন লেখার সময়ে ইউটিউবের দর্শক র্যাঙ্কিংয়ে নর্থ সাউথের ফ্ল্যাশ মব ভিডিওচিত্রটি দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে।
তবে মজার বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশে তো বটেই, এমনকি বিশ্ব ইতিহাসেও আইসিসি টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ডকাপ ২০১৪’র এইসব ফ্ল্যাশ মবগুলো একেবারেই ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।
বলতে গেলে নতুন করে ফ্ল্যাশ মবের ইতিহাস গড়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। কারণ, এবারই প্রথমবারের মতো একটি গান দিয়ে এতবার ফ্ল্যাশ মব হল। শুধু দেশেই নয়, সীমানা পেরিয়ে বিভিন্ন দেশের বাঙালিদের মনেও সাড়া ফেলেছে এই গান।
গ্রে বিজ্ঞাপনী সংস্থার কর্মকর্তা শাকিল বলেন, “আমার জানা মতে একটা নির্দিষ্ট গান নিয়ে এতগুলো ফ্ল্যাশ মবের ঘটনা এবারই প্রথম। শুধু তাই নয়, একটি ‘থিম সং’ নিয়ে এই পরিমাণ ভিডিওচিত্র নির্মাণ হয়েছে কি না, তাও সন্দেহ আছে। তাই আমরা গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের জন্য আবেদন করার কথা চিন্তা করছি।”
ক্রিকেটের বল সীমানা পেরুলেই চার-ছক্কা। আর গান যখন দেশের সীমা মানে না তখন ওয়ার্ল্ড রেকর্ড না হোক, অন্তত বাংলা গানের ছন্দে বিদেশিদের নাচতে দেখতে মন্দ লাগবে না নিশ্চয়।
তাই তো কুরিয়ারমেইল ডটকম ডট এইউ আশা প্রকাশ করেছে এই ভাষায়, “গানটি যেভাবে জনপ্রিয় হচ্ছে, তাতে লন্ডন, মুম্বাই, কেপটাউন ও সিডনির রাস্তায় চার ছক্কার তালে উজ্জ্বল পোশাকে তরুণদের আকস্মিক নৃত্য এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।”
প্রোব/পার/খেলা/২৬.০৩.২০১৪

২৬ মার্চ ২০১৪ | জাতীয় | ২০:০০:২৬ | ১৫:২৮:২৩

জাতীয়

 >  Last ›