A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

ফ্ল্যাশ মবের ইতিবৃত্ত | Probe News

flashmobintপ্রোবনিউজ, ডেস্ক: ফ্ল্যাশ মব হচ্ছে একদল মানুষ, যারা হঠাৎ করে জনাকীর্ণ স্থানে অত্যান্ত স্বল্প সময়ের জন্যে অপ্রচলিত, দৃশ্যত উদ্দেশ্যহীনভাবে বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড করে থাকে, এবং তারপর সবাই বিচ্ছিন্ন ভাবে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে গিয়ে প্রস্থান ঘটায়। বিনোদন দেওয়া, ব্যাঙ্গ করা এবং শৈল্পিক কলা প্রদর্শন সাধারণত ফ্ল্যাশ মবের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। টেলিযোগাযোগ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভাইরাল ইমেইল ব্যবহার করে ফ্ল্যাশ মব আয়োজন ও প্রচার করা হয়। ফ্ল্যাশ মবের আসল বিষয়ই হল জনসমক্ষে হঠাৎ অনেক লোক উপস্থিত হয়ে অদ্ভুত কিছু কর্মকাণ্ড করে আবার ভিড়ের মধ্যে মিশে যাওয়া। আর এই কাণ্ড ঘটানোর ইতিহাস বেশিদিনের নয়।
ফ্ল্যাশ মব শব্দটি, যা ২০০৩ সালে উদ্ভাবিত, সাধারণত কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচার, প্রচারের জন্য স্টান্ট, ব্যাক্তিক সম্পর্ক উন্নয়নের মত ঘটনা বা উদ্দেশ্যের জন্য প্রযোজ্য নয়। বরং এক্ষেত্রে তখন সেটিকে স্মার্ট মব বলা যায়। এই ক্ষেত্রে সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি পরিকল্পিত উদ্দেশ্যের প্রশ্নে, স্মার্ট মব শব্দ প্রায়ই ফ্ল্যাশ মবের পরিবর্তে প্রয়োগ করা হয়।
তবে ফ্ল্যাশ মবের ধারণাটির জন্ম উনিশ শতকে, অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া দ্বীপভূমিতে। সেখানকার নারী-বন্দীরা নিজেদের মধ্যেকার গোপন আলাপের জন্য যেসব জারগন ব্যবহার করতো, সেগুলোকে বলা হতো ফ্ল্যাশ ল্যাঙ্গুয়েজ। এরপর ১৯৭৩ সালে ল্যারি নিভেন ফ্ল্যাশ ক্রাউড শিরোনামে একটি লেখা ছাপেন। এইসব ধারণাই ফ্ল্যাশমবের আদি ধারণা। এরও আগে ষাটের দশকে হিপ্পি জনগোষ্ঠীর রাস্তার পারফরমেন্সের মধ্যেও ফ্ল্যাশ মবের আদি ধারণার ইশারা পাওয়া যায়।
২০০৩ সালের জুন মাসে নিউ ইয়র্কের ম্যানহ্যাটনে ঘটে প্রথম ফ্ল্যাশ মব। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ওই কার্যক্রমের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন হার্পার ম্যাগাজিনের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক বিল ওয়াসিক। যিনি ২০০৬ সালে তার একটি ব্লগ পোস্টে নিজেকে ফ্ল্যাশ মবের উদ্ভাবক হিসেবে পরিচয় দেন। সিএনএন ডটকমে ২০০৩ সালের ৯ অগাস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওয়াসিকের প্রথম উদ্যোগ ভেস্তে গিয়েছিল। ম্যানহ্যাটনের একটি দোকানে জড়ো হওয়ার জন্য তিনি ৫০ জনকে ই-মেইল পাঠিয়েছিলেন।
তবে তার পরের উদ্যোগটি বেশ ভালোভাবেই সফল হয়। পরিকল্পনা অনুসারে একশ’ জনেরও বেশি লোক বাড়ির সরঞ্জাম বিক্রির দোকান মেইসি’স-এ জড়ো হয়। তারপর একটি ‘প্রেম কম্বল’ কেনার জন্য বিক্রয়কর্মীকে নানান ধরনের উদ্ভট প্রশ্ন ছুড়ে তাকে বিমূঢ় করে হঠাৎ সবাই সটকে পড়ে। আরেকটি ম্যানহাটন ফ্ল্যাশ মব ঘটে সোহো এলাকার একটি জুতার দোকানে। যারা সেখানে নিজেদের মেরিল্যান্ডের পর্যটক হিসেবে পরিচয় দেয়। পরে তাদের সেন্ট্রাল পার্কের একটা উঁচু জায়গায় বসে পাখির মতো আওয়াজ করতে দেখা যায়। খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়তে থাকে এই পদ্ধতি। তাই সিএনএন ওই প্রতিবেদনের শিরোনাম করে ‘ফ্ল্যাশ মব’ ক্রেইজ স্প্রেডস। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইউরোপে প্রথম ফ্ল্যাশ মব ঘটে ২০০৩ সালে ২৪ জুন। রোমের একটি মিউজিক ও বইয়ের দোকানে তিনশ’ জনের মতো লোক ঢুকে এমন সব বইয়ের খোঁজ করতে থাকে যেগুলোর কোনো অস্তিত্বই নেই।
একই বছর ৮ আগস্ট সন্ধ্যায় ঘটে বার্লিন ফ্ল্যাশ মব। নিউ ইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে সিএনএন এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, প্রায় ৪০ জনের মতো লোক ব্যস্ত রাস্তায় জড়ো হয়ে মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে ‘ইয়েস, ইয়েস!’ বলে চিৎকার করে ওঠে। তারপর হাততালি দিতে থাকে। এভাবে লন্ডন, অ্যামস্টারডাম, ডাবলিন, জুরিখ ও ভিয়েনাতে ছড়িয়ে পড়তে থাকে ফ্ল্যাশ মব। আর এ কারণে নতুন শব্দ হিসেবে ফ্ল্যাশ মব অভিধানে জায়গা করে নেয়। ২০০৪ সালের ৮ জুলাই, বিবিসি নিউজের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারির ১১তম সংস্করণে বেশকিছু নতুন শব্দ যোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে, ‘ডিজাইনার বেবি’, ‘স্পিড ডেটিং’ ও ‘ফ্ল্যাশ মব’। মেরিয়াম ওয়েবস্টার অভিধানে ফ্ল্যাশ মবের ব্যাখ্যা করা হয়েছে এভাবে- নিমন্ত্রিত হয়ে (ই-মেইল বা টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে) নির্দিষ্ট সময় ও স’ানে নির্দেশিত কোনো কাজ করা জন্য উধাও হওয়ার আগে একদল লোকের জড়ো হওয়াকে বোঝায়।
ফ্ল্যাশ মব উদ্দেশ্যহীন বিনোদনের উপায় হিসেবে আবির্ভূত হলেও একদিকে যেমন তা খপ্পরে পড়েছে কর্পোরেট বাণিজ্যিক আগ্রাসনের, অন্যদিকে তা আবার উপায় হয়েছে প্রতিরোধ তৎপরতারও। বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের কাজে হরহামেশাই ব্যবহৃত হচ্ছে এই প্রক্রিয়া। আর বিভিন্ন ধারার প্রতিরোধ কর্মসূচির সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে ফ্ল্যাশ মবের নাম।
বাংলাদেশে প্রথম ফ্ল্যাশ মবের ঘটনা ঘটে ২০১২ সালে। ইংরেজি দৈনিক দ্য নিউ এইজ ২০১২ সালে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, প্রথমবারের মতো ঢাকা দেখল নিজস্ব ভঙ্গিমায় ফ্ল্যাশ মব। কাওরান বাজারের ওয়াসা ভবনের সামনে এই ফ্ল্যাশ মবের উদ্যোক্তা ছিল ‘দ্য প্রজেক্ট’ নামের একটি সাংস্কৃতিক দল। তারা কোরিয়ান শিল্পী সাই-এর ‘গাংনাম স্টাইল’ গানের সুরে নৃত্য পরিবেশন করে।
প্রোব/বান/আন্তর্জাতিক/২৬.০৩.২০১৪

২৬ মার্চ ২০১৪ | বিনোদন | ১৯:৫২:৫৪ | ১৫:৫৪:০১

বিনোদন

 >  Last ›