A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

প্রকাশক হত্যার নিন্দায় জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র,ইইউ’র | Probe News

প্রকাশক হত্যার নিন্দায় জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র,ইইউ’র

প্রোবনিউজ, ডেস্ক: প্রকাশক ও ব্লগারের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে কূটনৈতিক বিশ্বে। যুক্তরাষ্ট্র এমন হামলার ঘটনাগুলোকে কাপুরুষোচিত বলে নিন্দা করেছে। একই সঙ্গে পৈশাচিক ওই কর্মকাণ্ড প্রত্যাখ্যানকারী বাংলাদেশীদের পাশে থাকারও অঙ্গীকার করেছে দেশটি। জাতিসংঘ ভবিষ্যতে এমন হত্যাকাণ্ড এড়াতে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রতিটি পর্যায় থেকে নিন্দা জানানোর তাগিদ দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর অনুরোধও করেছে। আর ওই জোটের প্রভাবশালী সদস্য জার্মানি পৃথক বিবৃতিতে সামপ্রতিক সময়ে সংঘঠিত সব হত্যা ও নৃশংস হামলার নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এ ঘটনাগুলো কোন ব্যক্তির ওপর নয় বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত হিসাবেই দেখছে জার্মানি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া: প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনকে হত্যা এবং অপর প্রকাশক ও ব্লগার আহমেদুর রশিদ টুটুলসহ আরও দুজনের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘কাপুরুষোচিত’ উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকাস্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের এক বিবৃতিতে গতকাল এ নিন্দা জানানো হয়। চলতি বছরের শুরু থেকে যেসব ব্যক্তি এমন হামলায় হতাহত হয়েছেন তাদের পরিবার, বন্ধু এবং বাংলাদেশি জনগণের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, এ বছরের শুরুতে নীলয় চক্রবর্তী, ওয়াশিকুর রহমান, অনন্ত বিজয় দাশ এবং অভিজিৎ রায়কে হত্যার মতো ঘটনাগুলো সহিংস চরমপন্থা রুখতে দুই দেশের সরকারের যৌথ প্রচেষ্টার গুরুত্বকে তুলে ধরে। যেসব বাংলাদেশি এ ধরনের পৈশাচিক কর্মকাণ্ড প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে আছে। যুক্তরাষ্ট্র মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য কাজ করে যাবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

জাতিসংঘের নিন্দা: রাজধানীর শাহবাগে জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপনকে হত্যা এবং তিন লেখক ও প্রকাশককে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী রবার্ট ডি. ওয়াটকিনস। শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রতিটি পর্যায় থেকে এসব হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানো উচিত, যাতে পরবর্তী হামলা এড়ানো যায়। অপরাধীদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। যেসব নাগরিক ঝুঁকির মধ্যে আছেন, কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই অবিলম্বে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। বিবৃতিতে জাতিসংঘের প্রতিনিধি বলেন, ফয়সল আরেফিনকে হত্যা, আহমেদুর রশীদ টুটুল, তারেক রহিম ও রণদীপম বসুর ওপর হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। ব্যক্তির মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনই এই হামলার লক্ষ্য।

ইইউর নিন্দা: এদিকে ইউরোপের ২৮ রাষ্ট্রের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঢাকাস্থ ডেলিগেশন প্রধান রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়েদুন গতকাল এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সবশেষ হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। ইইউ বাংলাদেশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে রাষ্ট্রদূত শনিবার দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপনের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং একই দিনে অপর হামলায় আহত শুদ্ধস্বরের প্রকাশক আহমেদুর রশীদ ও কবি-ব্লগার তারেক রহিম এবং লেখক রণদীপম বসুর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তাদের বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর অনুরোধ করেন রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তৎপরতা এবং জনগণের ঐক্য উগ্রবাদীদের প্রতিরোধ করতে পারবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইইউ দূত।

নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করার তাগিদ জার্মানির: নৃশংস জোড়া হামলা চালিয়ে ঢাকায় শনিবার এক প্রকাশককে হত্যা এবং আরেক প্রকাশকসহ দুজনকে গুরুতর জখম করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জার্মানি। উল্লিখিত ঘটনা দুটিসহ সামপ্রতিক হামলায় ‘নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য’ তদন্ত নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে ইউরোপের ওই দেশ। ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিতকরণ এবং তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে সরকারের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে জার্মানি। ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত থমাস প্রিঞ্জ গতকাল এক বিবৃতিতে এ তাগিদ দেন। বিবৃতিতে ওই জোড়া হামলা ছাড়াও পুরান ঢাকায় শিয়া সমপ্রদায়ের ওপর বোমা হামলা এবং দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। শনিবার রাজধানীর শাহবাগে নিজ প্রতিষ্ঠানে কুপিয়ে হত্যা করা হয় জাগৃতি প্রকাশনীর কর্ণধার ফয়সাল আরেফিন দীপনকে। একই দিন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান শুদ্ধ স্বরের প্রকাশক আহমেদুর রশীদ চৌধুরী ও তার সঙ্গে থাকা দুই ব্লগার তারেক রহিম ও রণদীপম বসু হামলায় গুরুতর জখম হন। জার্মান দূত থমাস প্রিঞ্জ ঘটনা দুটি স্মরণ করে নিহত এবং আহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সমপ্রতি মুক্তমনা মানুষদের ওপর হামলার ঘটনা গভীর উদ্বেগের। ধর্মনিরপেক্ষতা এদেশের অন্যতম একটি মূল্যবোধ। বিভিন্ন ধর্মের ও মতের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য বিশ্বে বাংলাদেশের ব্যাপক পরিচিতি আছে। সামপ্রতিক হামলার ঘটনাগুলো শুধু কোন ব্যক্তির ওপর নয়, এগুলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের ওপর।’ মুক্তমনা মানুষদের নিরাপত্তা দেয়া এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার তাগিদ দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, তা না হলে এসব বর্বরোচিত হামলা বাংলাদেশের উন্নয়ন ধারাকে ব্যাহত করবে। বিবৃতিতে বাক স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন পশ্চিমা ওই রাষ্ট্রদূত।

ফ্রান্সের প্রতিক্রিয়া: ওদিকে গতকাল রাতে এক বিবৃতিতে ফ্রান্স ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। ‘দায়মুক্তি বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে দেয়া ওই বিবৃতিতে ঢাকায় বর্বরোচিত হামলার বিষয়টি উল্লেখ করে ফ্রান্স বলেছে, ওই দিবসের প্রাক্কালে বাংলাদেশে ভয়াবহ এক আলোক সম্পাত করেছে। ৩১শে অক্টোবর হত্যা করা হয়েছে প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনকে। একই দিন হামলা হয়েছে প্রকাশক ও ব্লগার আহমেদুর রশিদ টুটুল, রণদীপম বসু ও তারেক রহিমের ওপর। ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায়ের বই সাহস করে প্রকাশ করেছিলেন দীপন ও টুটুল। নিহত ও আহতদের স্বজনদের বেদনা ফ্রান্স ভাগাভাগি করছে জানিয়ে বিবৃতিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে বলা হয়, বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যেসব নারী-পুরুষ শুভ বুদ্ধি নিয়ে অবস্থান করছেন ফ্রান্স তাদের পাশে রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২রা নভেম্বর ফ্রান্সে এমন এক হামলায় দুজন সাংবাদিক নিহত হন। ‘দায়মুক্তি বিরোধী দিবস’ হিসাবে পালন করে ফ্রান্স। দেশটির প্রস্তাবে জাতিসংঘ দিবসটির স্বীকৃতি দিয়েছে। এটি এখন আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয়।

প্রোব/পি/জাতীয়/০২.১১.২০১৫

 

২ নভেম্বর ২০১৫ | জাতীয় | ১২:৩৭:০৭ | ১২:৩৯:৩৪

জাতীয়

 >  Last ›