A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

পেশোয়ারে বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা, নিহত ৪২ | Probe News

পেশোয়ারে বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা, নিহত ৪২


প্রোবনিউজ, ডেস্ক: পাকিস্তানের পেশোয়ারে দেশটির বিমানবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে তালেবান জঙ্গিরা। গতকাল শুক্রবার ভোরে চালানো ওই হামলায় জঙ্গি সদস্যসহ অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। গত কয়েক মাসের মধ্যে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে এটাই ভয়াবহতম হামলা বলে উল্লেখ করছে গণমাধ্যম। খবর এএফপির।

হামলার দায় স্বীকার করেছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। পেশোয়ারের কাছের উপজাতি জনগোষ্ঠী-অধ্যুষিত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গিদের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত। পাকিস্তানি সেনা কর্তৃপক্ষ জানায়, পেশোয়ারের অদূরে বাদাবের এলাকায় অবস্থিত বিমানবাহিনীর ওই ঘাঁটি। এর আবাসিক ভবন চত্বরে ভোরের দিকে হঠাৎ করে ১৩ জনের বেশি জঙ্গি ঢুকে পড়ে। সেনাবাহিনীর প্রধান মুখপাত্র মেজর জেনারেল অসীম বাজওয়া বলেন, সেনাসদস্যরা খুব দ্রুত জঙ্গিদের ওই দলটিকে চারদিক দিয়ে ঘিরে ছোট একটি জায়গার মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলেন। সেনারা কিছুক্ষণের মধ্যেই জঙ্গিদের অন্তত ১৩ জনকে হত্যা করেন। মুখপাত্র বাজওয়া এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জঙ্গি হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বিমানবাহিনীর ২৩ জন, সেনাবাহিনীর ৩ জন। এ ছাড়াও ৩ জন বেসামরিক লোক এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

এর আগে খুদে বার্তা লেখার ওয়েবসাইট টুইটারে অসীম বাজওয়া লিখেছিলেন, ওই জঙ্গিরা ঘাঁটি চত্বরে প্রবেশ করে সেখানে একটি মসজিদে হামলা চালায়। এ সময় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সংঘর্ষের সময় সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেনসহ কয়েকজন নিহত হন। আহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন, যাঁদের মধ্যে ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গিরা তিনটি দলে ভাগ হয়ে বিমানবাহিনীর ওই ঘাঁটিতে প্রবেশ করে। দুটি দল আবাসিক ভবন চত্বরের দিকে যায়। অন্য দলটি মসজিদের দিকে যায়। ওই দলটিই মসজিদে গিয়ে গুলি ছুড়ে ১৬ জনকে হত্যা করে। ঘাঁটির অদূরের বাসিন্দা সাবিতুল্লাহ খান জানান, গোলাগুলির সময় গ্রেনেডের বিস্ফোরণে তাঁর বাড়ির একটি দেয়াল ধসে পড়েছে। ওই সময়ের গোলাগুলির শব্দ ছিল ভয়াবহ।

ঘাঁটির আবাসিক চত্বর-সংলগ্ন মুদি দোকানি কাফিয়াতুল্লাহ বলেন, চত্বরের বাইরের একটি মসজিদে তিনি ফজরের নামাজ আদায় করছিলেন। এমন সময় গ্রেনেড বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দ শোনা যায়। এর পরপরই শুরু হয় ভয়াবহ গোলাগুলি। গুলির ভয়াবহতায় তিনিসহ মুসল্লিরা ভয়ে জানালা দিয়ে বেরিয়ে যান।

মুখপাত্র অসীম বাজওয়া জানান, আরও হামলাকারী আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি জানান, পেশোয়ার ব্রিগেড কমান্ডার ও বিশেষ ‘কুইক রেসপন্স টিম’ ওই অভিযান চালায়। তাদের সঙ্গে বিমানবাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। টুইটারে অসীম বাজওয়ার পোস্ট করা ছবিতে দেখা যায়, সাতজন হামলাকারীর লাশ পড়ে আছে।

টিটিপি সাংবাদিকদের কাছে ই-মেইল বার্তা পাঠিয়ে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটির মুখপাত্র মোহাম্মদ খুরাসানির পাঠানো ওই বার্তায় বলা হয়েছে, ‘আত্মঘাতী ইউনিটের’ সদস্যরা ওই হামলা চালিয়েছে।

পাকিস্তানের ডন পত্রিকা জানায়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। খবর পেয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফ পেশোয়ারে গেছেন। সেখানে তাঁর উচ্চপর্যায়ের সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা।

খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারেই পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী ঘটনাটি ঘটেছিল। গত বছরের ডিসেম্বরে তালেবান বন্দুকধারীরা সেনাবাহিনী পরিচালিত স্কুলে ওই হামলা চালিয়ে দেড় শ জনকে হত্যা করে। পেশোয়ারে সর্বশেষ ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে গত ফেব্রুয়ারিতে। তালেবান জঙ্গিরা একটি শিয়া মসজিদে হামলা চালিয়ে ২১ জনকে হত্যা করে।

প্রোব/পি/দক্ষিণএশিয়া/১৯.০৯.২০১৫

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ | দক্ষিণ এশিয়া | ১৩:৩৪:৪০ | ১৫:৫৪:৪১

দক্ষিণ এশিয়া

 >  Last ›