A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

ভারতের মনিপুরের সহিংসতার নেপথ্যে | Probe News

ভারতের মনিপুরের সহিংসতার নেপথ্যে

প্রোবনিউজ, ডেস্ক: গত সপ্তাহে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মনিপুর রাজ্যে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের আন্দোলনে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো অনেকে। তবে এই সহিংসতার পেছনে আসল কারণ কী। মনিপুরের সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠী, সেখানকার আদিবাসী মানুষ আর ভূমি নিয়ে দ্বন্দ্বেরে প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে বিশিষ্ট সাংবাদিক সুবির ভৌমিক সেখানকার সঙ্কটা বুঝতে চেষ্টা করেছেন। প্রিয়’র পাঠকের জন্য সুবিরের লেখাটির আলোকে এই প্রতিবেদন তৈরী করা হয়েছে।

কয়েকমাস ধরেই মনিপুরের সংখ্যাগুরু হিন্দু মেতেই সম্প্রদায় আন্দোলন করে আসছে। তাদের দাবি, ইনার লাইন পারমিট সুবিধা দিতে হবে রাজ্যে। ভারতবর্ষে ইনার লাইন পারমিট পদ্ধতি শুরু করে ব্রিটিশ সরকার। এখনো অরুনাঞ্চল, মিজোরাম ও নাগাল্যান্ডে এই পদ্ধতি রয়েছে। এর ফলে বহিরাগতদের দখল থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারে স্থানীয়রা। আর এই সুবিধা থাকলে বাইরের কেউ এসে তাদের জমি কিনতে পারে না। কিংবা দখল করতে পারে না। এজন্যই মূলত মিতেই সম্প্রদায় এই দাবি জানিয়ে আসছে।

বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারে আদিবাসীদের অনেক স্থান এখন অন্যান্যদের দখলে। মানিপুরেও এই বহিরাগতের সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছে। ২০০১ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মানিপুরের জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশই বহিরাগতদের। আর এই ব্যাপারটিই মেনে নিতে পারে না ওই সম্প্রদায়। তাদের এই আন্দোলনের সময় সপ্তাহজুড়ে বন্ধ ছিলো স্কুল। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায় বহুগুণ। রাস্তায় চলতে থাকে সহিংসতা।

এরপর আগস্টের শেষ দিকে মানিপুর রাজ্য মন্ত্রীসভা স্থানীয়দের সুবিধা করে দিতে তিনটি বিল পাশ করে। তবে মেইতি সম্প্রদায় এতে শান্ত হয়ে গেলেও নাগাস ও কুকিসরা অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠে। ৩১ আগস্ট নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী তিনটি ছাত্র সংগঠন মানিপুরে হরতাল ডাকে। তাদের দাবি ছিলো এই বিল তিনটি তুলে নিতে হবে। আর দুইদিনের এই আন্দোলনে ৮ জন মানুষ মারা যায়। এ সময় কুকিদের একজন সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রীর বাড়ি পুরিয়ে ফেলা হয়। কারণ তাদের কাছে মনে হয়েছে যে তারা কুকিদের কথা চিন্তা করেনি।

সংগঠনগুলো দাবি করে নতুন করা এই আইনের ফলে মানিপুরের পাহাড়ঞ্চল যেখানে মূলত নাগাম ও কুকিসরা বসবাস করে সেখানে মেইতিরা জমি কিনতে পারবে। এখন পর্যন্ত এটা সম্ভব ছিলো না। তবে মনিপুর মানবাধিকার কর্মী বাবলু লইতোংবাম বলেন, এই বিলগুলোতে আদিবাসীদের নিরপত্তা বা অন্যান্যা বিষয়ে ক্ষতি হওয়ার কোনো সুযোগই নেই। বরং বহিরাগতদের জমি কিনতে আরো কঠিন আইনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

সহিংসতার জন্য তিনি রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেন। অভিযোগ করেন, তারা নাগাস ও কুকিস দের বোঝাতে সক্ষম হয়নি।
তিনি বলেন, ‘পাহাড়ী আদিবাসী ও সমতলে থাকা মেতেই সম্প্রদায়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হওয়ায় সরকারের উচিত ছিলো বিলগুলোর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করা। আগে এখানে জমি কিনতে হলে স্থানীয় মন্ত্রীর অনুমতি হলেই চলতো। কিন্তু এখন সেক্ষেত্রে পুরো মন্ত্রিসভার অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে।’

১৯৫১ সালে পাশ হওয়া একটি আইনের কারণেই মূলত শঙ্কিত নাগাস ও কুকিসরা। সে বছরই তাদেরকে নাগরিক ঘোষণা করা হয় এবং তাদেরকে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়। এখন যারা সেই স্থান ছেড়ে শহরে বসবাস করতে গেছে, তারা আবার জমি ফিরে নাও পেতে পারে বলেই আশঙ্কা তাদের। নারী মানবাধিকার কর্মী বিনালক্ষী নেফ্রাম এই অস্থির অবস্থার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করেন। প্রথমে মেতেইরা আন্দোলন করলো এবার করছে আদিবাসীরা। তিনি বলেন, ‘মনিপুরের ৬০ শতাংশ জনগণ তাদের জমির উপর নির্ভর করে। তাই জমি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।’

মনিপুর এখন সহিংসতার নতুন ক্ষেত্র। মেইতেই, নাগা ও কুকিসরা এখন বিভক্ত হয়ে সশস্ত্র অভিযান চালাচ্ছে। অনেক সময় তারা ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর উপরও হামলা চালাচ্ছে। বিদ্রোহীর থামাতেও আইন করা হয়েছে। আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার আইন এর কারণে সশস্ত্র বাহিনীর এখন অভিযান ও আটক করার ক্ষমতা রয়েছে। তবে এর আগেও ১৯৯০ সালে মেইতি, নাগা এবং কুকি সেনারা নিজেদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আর এখন মেইতিরা এই পরিবর্তনের অসন্তুষ্ট। আর তাই তারা বহিরাগতদের আক্রমণ করছে, কখনো কখনো সশস্ত্র বাহিনীকেও। আর এই সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রোব/পি/দক্ষিণএশিয়া/১০.০৯.২০১৫

 

১০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ | দক্ষিণ এশিয়া | ১০:৪৯:৪৪ | ১৪:০৩:৪৯

দক্ষিণ এশিয়া

 >  Last ›