A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

নিষ্প্রাণ আয়লান ও নিলুফার দেমির | Probe News

Nilofar- showcase- 2 06.09.2015নিষ্প্রাণ আয়লান ও নিলুফার দেমির

প্রোবনিউজ, ডেস্ক: সমুদ্রের বালুরাশির ওপর উপুড় হয়ে শুয়ে আছে এক শিশু। কাছে গিয়ে যখন দেখি সে নিথর পড়ে আছে। তাকে বাঁচানোর কোন সুযোগ নেই, সঙ্গে সঙ্গে আমি যেন পাথর হয়ে যাই। মনের গভীরে এক অদৃশ্য কান্না বার বার উথলে উঠতে থাকে। সেই শোককে দূরে সরিয়ে পেশাগত কাজে ক্যামেরা হাতে নিই। ক্লিক ক্লিক করে ছবি তুলি। সেই ছবি যে সামাজিক মিডিয়া, সংবাদ মাধ্যম এত গুরুত্ব দেবে কখনও ভাবি নি। বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন তুরস্কের দোগান নিউজ এজেন্সির সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফার নিলুফার দেমির (২৯)। তিনিই গত বুধবার তুরস্কের সমুদ্রতীরে নিষপ্রাণ আয়লান কুর্দি (৩)-এর ছবি তুলেছেন। তার একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছে লি মন্ডে পত্রিকা। সেখানে তিনি বলেছেন আবেগজড়ানো স্মৃতি, আয়লান কুর্দির কাহিনী। নিলুফার বলেছেন, অন্যদিনের মতোই বুধবার সকালে তিনি তুরস্কের বোদরাম সৈকতে যান কোন শরণার্থী আসছে কিনা তার ওপর রিপোর্ট সংগ্রহ করতে। তার ভাষায় অকস্মাৎ চোখে পড়ে একটি ছোট্ট শিশু যেন বালুর ওপর উপুড় হয়ে শুয়ে ঘুমাচ্ছে। তার পরনে লাল টি-শার্ট, গাঢ় নীল শর্টস পরা। পায়ে জুতো। যখন কাছে গিয়ে দেখি সে মৃত। তাকে আর বাঁচানোর কোন সুযোগ নেই। সঙ্গে সঙ্গে আমার হৃদয় ভেঙে গেল। আমি স্থির হয়ে গেলাম। এ এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। সহ্য করার মতো নয়। কিন্তু ভুলে যাইনি পেশাগত দায়িত্বের কথা। তাই প্রথমেই ক্যামেরা বের করে তার ছবি ধারণ করি, যাতে পৃথিবী তাদের কান্না, এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির কথা জানতে পারে। বিশ্ববাসীর কাছে আমি তুলে ধরতে চাইলাম বিপন্ন মানুষের হৃদয়ে যে ক্ষরণ হচ্ছে তা। নিলুফার কোনমতে নিজেকে সামলে নেন। তারপর আবার বলতে শুরু করেন- শিগগিরই দেখতে পাই আয়লান কুর্দি থেকে খুব দূরে নয়, পড়ে আছে তার থেকে বড় ভাই গালিব। গালিবের বয়স ৫ বছর। আয়লানের কাছ থেকে ১০০ মিটার দূরে শুয়ে আছে সে। এবার তাদের কাছে এগিয়ে যান নিলুফার দেমির। তিনি দেখতে পান দুটি শিশুর কারো গায়ে জীবন রক্ষাকারী লাইফ জ্যাকেট নেই। নেই অন্য কোন অবলম্বন। ওই অঞ্চল দিয়ে অবৈধ অভিবাসী বা শরণার্থী প্রবেশের ঘটনা ঘটছে গত ১৫ বছর ধরে। বিশেষ করে গত ২/৩ মাস ধরে তা বেড়েছে ব্যাপকভাবে। নিলুফার বলেন, আয়লানের ছবি তুললে তা এতটা প্রচার পাবে, এত মানুষের হৃদয়ে অনুরণন তুলবে তা তিনি তখনও ভাবেন নি। শুধুই পেশাগত দায়িত্বে ক্যামেরায় বন্দি করেন ছবি। এখন সেই ছবি সারাবিশ্বের সব মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সিরিয়ার শিশু আয়লান ট্র্যাজেডি যে বিশ্বজুড়ে মানুষের হৃদয়ে কাঁপন ধরিয়েছে তাতে মানসিক স্বস্তিতে আছেন নিলুফার। তার বিশ্বাস, এই ছবিটিই বিশ্বজুড়ে শরণার্থী নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে তার একটি সমাধান মিলবে।

প্রোব/পি/আন্তর্জাতিক/০৬.০৯.২১০৫

 

৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ | বিনোদন | ১৪:৪৮:৩৬ | ১২:৫৯:৪৪

বিনোদন

 >  Last ›