A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

হেমায়েতপুর কতদূর- এক স্বজনদের অপেক্ষায় পথ চেয়ে থাকে ওরা | Probe News

Probe Special 1 mar 16হেমায়েতপুর কতদূর- এক

স্বজনদের অপেক্ষায় পথ চেয়ে থাকে ওরা

শফিক রহমান, পাবনা থেকে ফিরে: ‘আমি এখন সুস্থ্য, হাসপাতাল থেকে এই খবরটা পাঠালেই ভাই চলে আসবে। আমাকে বাসায় নিয়ে যাবে। এই সরল বিশ্বাসটুকু বুকে চেপে ধরে আজও হাসপাতালের গরাদের শিক্ ধরে অপেক্ষা করছেন শাহজাহান আলম। এভাবে দশ বছর কেটে গেছে তার অপেক্ষায়, কিন্তু ভাই জাহাঙ্গীর আলম আর আসছেন না। ২০০৪ সালের ৭ জানুয়ারি মানসিক রোগের চিকিৎসার জন্যে শাহজাহান আলমকে হাসপাতালে রেখে আসেন তিনি। এরপর আর কোনদিন শাজাহানের খোঁজ নেয়নি তার ভাই জাহাঙ্গীর কিংবা আত্মীয়স্বজনরা।

Probe Special 3 mar 16হাসপাতালের রেকর্ডে শাহজাহান আলমের ঠিকানা- পিতা-মৃত আব্দুস সাত্তার, প্রযত্বে-মো. জাহাঙ্গীর আলম (ভাই), বাসা-৩৯১, গুলবাগ, ডাকঘর-মালিবাগ, থানা-মতিঝিল, জেলা-ঢাকা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, ঠিকানা অনুযায়ী লোক পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে ওই নামে কাউকে পাওয়া যায়নি।

শুধু শাহজাহান আলমই নয়, পাবনা হেমায়েতপুরের মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এ ধরনের আরো ৪৩ জন রোগী রয়েছেন। এদের মধ্যে পুরুষ ২৯জন, আর নারী ১৪ জন। আত্মীয়-স্বজনরা খোঁজ না নেয়ায় বেওয়ারিশ হয়েই বছরের পর বছর দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। প্রোবের অনুসন্ধানে জানা গেছে এসব তথ্য। এখানকার চিকিৎসকরা জানান, ‘বেওয়ারিশ এই রোগীদের কেউ কেউ এখানে আসার পরপরই সুস্থ হয়ে উঠেন। কেউ আবার পরিবারের সহচার্য পেলে আরো দ্রুত সুস্থ্য হয়ে উঠতো। কিন্তু বাস্ততা এমনই নির্মম যে, এই অসহায় মানুষগুলোর খোঁজ নিচ্ছে না কেউ।’

হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. হেদায়েতুল ইসলাম প্রোবকে জানান, এসব রোগীর পরিবার-পরিজন খুঁজে পেতে বারবার চেষ্টা করেও তারা ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, নিয়মানুযায়ী প্রথমে রোগীর অবস্থা জানিয়ে ফেরত নেয়ার জন্যে টেলিগ্রাম পাঠানো হয়। চিঠি দেয়া হয়। তাতেও কেউ না আসলে পরে লোক দিয়ে রোগীদের ওইসব ঠিকানায় পাঠানো হয়। এ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ভর্তি করার সময় হাসপাতালে দেয়া রোগীদের ঠিকানাগুলো বেশির ভাগ সঠিক নয়।

ডা. মো. হেদায়েতুল ইসলাম আরো জানান, কারো কারো ঠিকানা পাওয়া গেলেও দেখা গেছে, রোগীর আত্মীয়রা এক সময় সেখানে বাস করতেন। পরে অন্য কোথাও চলে গেছে। তাদের বর্তমান ঠিকানা চেষ্টা করেও আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

আর যারা ভুল ঠিকানা দেন, তারা হয়তো ইচ্ছে করেই রোগীকে সারা জীবনের জন্য হাসপাতালে ফেলে রাখার বাসনা থেকে এমনটা করে থাকেন। ‘পাগল’ বলে হয়তো মা, বাবা, ভাই, বোন, পুত্র, কন্যা, স্ত্রী’কে চিরদিনের জন্য অস্বীকার করেন তারা। সুস্থ্য মানুষেরা এভাবে রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেললেও - এই মানুষগুলো অবুঝ- তারা আপনজনের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রতিটা মুহূর্ত অস্থির হয়ে থাকে।

pabna-mantal-hospital-11 mar 16অনেকটা আবেগ তাড়িত হয়েই এ কথাগুলো বললেন, ডা. হেদায়েতুল ইসলাম।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অভিভাবকরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখেছেন এমন তালিকায় সবচেয়ে পুরনো রোগী হলেন নাজমা নিলুফা। ১৯৮১ সালের পহেলা এপ্রিল তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার রোগের ধরন সিজোফ্রিনিয়া। নিলুফার ভর্তি ফর্মের নিচের অংশে ছোট অক্ষরে লেখা রয়েছে, ‘রোগী হাসপাতাল হইতে পালাইয়া গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। এবং চিঠি পাওয়া মাত্র রোগীকে লইয়া না গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীকে একাকী ছাড়িয়া দিতে বাধ্য থাকবে’।

এই শর্ত মেনে নিয়েই ভর্তি ফর্মে স্বাক্ষর করেছেন পারভেজ করিম। এবং স্বাক্ষরের নিচেই ব্রাকেট বন্ধি ছোট অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘ভাই’। অর্থাৎ পারভেজ করিম হচ্ছেন নাজমা নিলুফারের ভাই এবং তিনিই তার বোনকে ৩৩ বছর আগে এখানে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করিয়েছিলেন।

এই হাসপাতালের চার দেয়ালের মাঝেই কেটে গেছে ৩৩ বছর, নাজমা নিলুফা পালায়নি। নিলুফা’র ভাই পারভেজ করিম আর ফিরে আসেনি বোনের খোঁজে। কিংবা পরিবারের সদস্যরাও কোনদিন জানতে চায়নি নিলুফা’র খবর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও রোগীকে একাকী ছেড়ে দেয়নি, বরং আগলে রেখেছে তাকে।

হাসপাতালের রেকর্ড অনুযায়ী নাজমা নিলুফা’র ঠিকানা-পিতা একে লুৎফর করিম, বাড়ি-১১, সড়ক-৬, ব্লক-এ, সেকশন-১১, মিরপুর, ঢাকা। এই ঠিকানায় বার বার যোগাযোগের করেও তার পরিবারের কাউকে খুঁজে পায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সে কারণেই বলা যায়, নাজমা নিলুফা- এর স্থায়ী ঠিকানা বর্তমানে এই হাসপাতালের ১৫ নং ওয়ার্ড।

১৬ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা। মহিলা ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সেবিকার মাথার ওপরে চলছে টেলিভিশন। তার সামনেই গরাদের ওপারে মেঝেতে বসে মাথা উঁচিয়ে টেলিভিশন দেখছেন ৭/৮ জন রোগী। লম্বা ওয়ার্ডের একেবারে শেষ মাথায় বিছানার ওপর লাল রঙের সালোয়ার-কামিজ পরে স্থির হয়ে বসে আছেন নাজমা নিলুফা। মাথা ভর্তি কাঁচা-পাকা ছোট ছাটের চুল। তার আচরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেবিকাটি জানালেন, ‘শুনেছি, উনি নাকি আগে অনেক চঞ্চল-প্রকৃতির ছিলেন। তবে এখন অনেকটাই শান্ত। দিনের সারাটা সময় ওই বিছানাতেই বসে কাটান।’

ভর্তির রেকর্ড অনুযায়ী ১৯৮১ সালে নিলুফা’র বয়স ছিল ২৮ বছর। তার বর্তমান বয়স ৬১ বছর। যুবতি থেকে প্রৌঢ়া। জীবনের অর্ধেকের বেশি সময়ই কেটেছে এই হাসপাতালের চার দেয়ালের মাঝে। জানার উপায় নেই, ভাই পারভেজ করীম কী বয়সে নিলুফারের বড় ছিলেন! তিনি কী বেঁচে আছেন? যদি বেঁচে থাকেন- তবে একবারও কী তার মনে পড়েনা, তার ছোট বোনটি কেমন আছে! কিংবা মন কী জানতে চায় না তার আদরের বোনটি বেঁচে আছে, নাকি মরে গেছে?

একইভাবে হয়তো বাড়ি ফেরার আশা ছেড়ে দিয়েছেন আরেক এক রোগী মাহবুব আনোয়ার। ১৯৯৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি করেন তার ভাই শফিকুল আলম। কর্তৃপক্ষ জানান, শুরুর দিকে তাকে পেয়িং ওয়ার্ডে রাখা হয়। নিয়মিত টাকা পাঠাতো তার পরিবার। এরপর হঠাৎ করেই টাকা আসা বন্ধ হয়ে যায়। সেই সাথে মাহবুবের সাথে যোগাযোগও বন্ধ করে দেয় তার স্বজনেরা। নিয়মানুযায়ী ঢাকার ধানমন্ডি থানাধীন ২৬৩ নং ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ঠিকানায় লোক পাঠায় হাসপাতাল কর্র্র্র্র্র্র্তৃপক্ষ। কিন্তু ওই ঠিকানায় মাহবুব আনোয়ারের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে মাহবুব আনোয়ারের ঠিকানা হাসপাতালের ৭নং ওয়ার্ডে। তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে গেটের ওপাশে ছুটে আসেন আরো ১০/১২ জন রোগী। প্রায় সবার পুষ্টিহীন দুর্বল শরীরের মাঝে বেমানান বড় বড় চোখ। কপাল বরাবর হাত উঁচিয়ে এক সঙ্গে বলে ওঠল ‘আস্সালাকুয়ালাইকুম’। কর্তব্যরত সেবিকার টেবিলের পাশে খালি চেয়ার দেখিয়ে ১৬/১৭ বছরের এক কিশোর রোগী বলল, ‘সিট ডাউন হিয়ার, প্লিজ’। তার অনুরোধ রাখতে চেয়ারে বসতে বসতে তাকে ধন্যবাদ জানালে ছেলেটি এবার বলে, ‘আই অ্যাম এ গুড স্টুডেন্ট...।’ সেবিকার ধমকে থেমে যায় এই কিশোরটি।

এবার ডাক পরে মাহবুব আনোয়ারের। তখনও সে ওয়ার্ডের এক প্রান্তে জানালার শিক ধরে তাকিয়ে আছেন বাইরের দিকে। ডাক শুনে চলে আসেন। জিজ্ঞেস করি-‘কেমন আছেন?’

একটিমাত্র শব্দে তার উত্তর- ‘ভাল’।

এরপর নিস্পলক তাকিয়ে থাকেন। আবার চলে যান জানালার কাছে।

সেবিকা জানালেন, কয়েক মাস আগে কোন এক শুক্রবারে বোন পরিচয়ে এক মহিলা মাহবুব আনোয়ারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। সঙ্গে করে তাকে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু শুক্রবার ছুটিরদিন থাকায় রোগীকে ডিজচার্চ করা সম্ভব হয়নি। একটি মোবাইল নাম্বারও রেখে যান বোন পরিচয়দানকারী ওই মহিলা। পরে দেখা গেছে, ওই নাম্বারটিও ভুল। বারবার ফোন করেও তাকে আর পাওয়া যায়নি।

মাহবুব বাসায় যেতে চায় কিনা এবং আপনজনদের সম্পর্কে জানতে চায় কিনা কিনা, জানতে চাইলে এই সেবিকা জানান, ‘আগে বাসায় যাওয়ার জন্যে অনেক উদগ্রীব হতো। এখন আর কিছু বলেন না।’

১৯৯৪ সালের ২২ ডিসেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কাজী আকরামুল জামান। এরপর ২০ বছর পার হলেও পরিবারের লোকজন আর তাকে নিতে আসেননি। বর্তমানে তিনি রয়েছেন হাসপাতালের ৫নং ওয়ার্ডে। হাসপাতালের রেকর্ডে কাজী আকরামুল জামানের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে-পিতা কাজী গোলাম গাউস, বাসা-১১৩, সড়ক-৪, মিরপুর ১২/এ, থানা পল্লবী, ঢাকা।

আরেক রোগী সাঈদ হোসেন। ১৯৯৬ সালের ২২ জুলাই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি। এখানে তারও কেটে গেছে ১৮ বছর। চিকিৎসকরা বলছেন, অনেক আগেই সুস্থ হয়েছেন সাঈদ। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ না থাকায় তারও বর্তমান ঠিকানা হাসপাতালের ৫নং ওয়ার্ড। যদিও হাসপাতালের রেজিস্টারে তার ঠিকানা লেখা আছে, পিতা আবুল হোসেন মিয়া, মাতা হেলেনা বেগম, ২৫৪/এ (দোতলা), আমবাগান, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা। সাইদ বাংলার পাশাপাশি উর্দুতেও সমান পারদর্শি। পঞ্চাশোর্ধ সাঈদ এখনো বিশ্বাস করেন, তার পরিবারের সদস্যরা ফিরে আসবেই এবং তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে ঘরে।

২০০২ সালের ১৭ আগস্ট শেখ মহিউদ্দিনকে হাসপাতালে ভর্তি করান তার ভাই মজিবর শেখ। এর আগে ১৯৯৭ সালেও একবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। ছিলেন ৯ নং ওয়ার্ডে। এরপরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু এবার শেখ মহিউদ্দিন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হলেও তাকে আর বাড়ি ফিরিয়ে নেয়া হয়নি। বর্তমানে তার অবস্থান হাসপাতালের ৮ নং ওয়ার্ডে।

ঢাকার কাটাসুরের গোলজার বিবি পলু এখানে ভর্তি হন ২০০০ সালের ৯ আগস্ট। নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন তার মা। হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। গোলজার বিবির বর্তমান অবস্থানা হাসপাতালের ১৪ নং ওয়ার্ডে। তার ঢাকার ঠিকানা, পিতা-মো. হাফেজ মিয়া, ১১৩/২, কাটাসুর, থানা-মোহাম্মদপুর, ঢাকা। কর্তব্যরত সেবিকা জানান, ‘কয়েক বছর আগে গোলজার বিবি পলুর মা এসে বলেছিলেন তাদের ঢাকার বাড়িটি বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। টাকা ফিক্সড ডিপোজিড করে রেখেছেন ব্যাংকে। ওই টাকার লাভ দিয়েই চলছে তাদের সংসার’।

শাহনাজ বেগম নামে আরেক মহিলা সিজোফ্রিনিয়ায় আক্রান্ত মেয়ে জাকিয়া সুলতানাকে ২০০৯ সালের ২৭ জুলাই হাসপাতালে ভর্তি করান। এখন আর মেয়ের খোঁজ রাখছেন না তিনি। জানা যায়, জাকিয়া সুলতানার ঠিকানা পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের পাশের গ্রাম রাধানগর হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন ওই ঠিকানাটি সঠিক নয়।

হাসপাতালের পুরানো রোগীর তালিকায় আরো রয়েছেন আমেনা খাতুন (বুবি)। ১৯৮৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের ১৬ নং ওয়ার্ডে তার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে ডা. হেদায়েতুল ইসলাম ওই ওয়ার্ডের সেবিকাকে ডেকে পাঠান। সেবিকা জানালেন, ‘ওয়ার্ডে না যাওয়াই ভালো। কারণ, রোগী হঠাৎ করে ভায়েলেন্ট হয়ে পড়েছে। হাত-পায়ে তালা দিয়ে রাখা হয়েছে।’ হাসপাতালের রেকর্ডে আমেনা খাতুন বুবির ঠিকানা, প্রযতেœ-মোজাই শেখ, মানসিক হাসাপাতাল, পাবনা।

১৬ নং ওয়ার্ডে পুরানো রোগীদের মধ্যে আরো রয়েছেন অনামিকা বুবি, পিতা-ডা. ধিনোদ শেখর চাকমা এবং সাহিদা, পিতা-ফুন্দু।

ভর্তির নিয়মে কড়াকড়ি আরোপ:
ডা. হেদায়েতুল ইসলাম জানান, চিকিৎসার নামে হাসপাতালে ভর্তির পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার এই প্রবণতা বন্ধে বর্তমানে রোগী ভর্তির প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি করা হয়েছে। ভর্তির ক্ষেত্রে এখন রোগী এবং রোগীর নিকটজনের জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি জমা দেয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া, রোগীর নিজ এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ বা ওয়ার্ড কমিশনারের দেয়া নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ।

এছাড়া, চিকিৎসা শেষে রোগী সুস্থ হলে নির্দিষ্ট সময়ের পরে রোগীকে লোক মারফত তার বাড়ি পাঠাতে পাবনা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দূরত্ব অনুযায়ী যাতায়াত ভাড়াসহ যাবতীয় খরচ নির্ধারণ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হিসাব অনুযায়ী দেখা গেছে, পাবনা থেকে ঢাকায় যাতায়াতের খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫০০টাকা; নরসিংদীর জন্যে ৩৮০০টাকা, বরিশাল, ভোলা,বরগুনার জন্যে ৫০০০টাকা, বান্দরবানের জন্যে ৫৫০০টাকা। একইভাবে দেশের ৬৪টি জেলার জন্যে ভিন্ন ভিন্ন খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে। রোগী ভর্তির সময়ে নির্ধারিত সমপরিমাণের ওই টাকাও জমা রাখা বাধ্যতামূলক। কড়াকড়ি নিয়ম আরোপের কারণে ইতোমধ্যে এর সুফলও পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেন ডা. মো. হেদায়েতুল ইসলাম।

মৃত্যুতে মুক্তি!
আপনজনের হাত ধরে যখন এইসব অসহায় নারীপুরুষ হাসপাতালের গন্ডিতে প্রবেশ করেছিলেন, তারা বেশিরভাগই জানতেন না , আর কোনও দিন ফিরে যাওয়া হবে না নিজের বাড়িতে। তারা জানতেন না, মানসিক বৈকল্যের কারনে মায়া- মমতা ভুলে যাবে, এমনকি রক্তের বন্ধনও ছিন্ন করবে স্বজনেরা। অতঃপর, তাদের নিয়তির গ্রাম হয়ে যায় হেমায়েতপুর, মানসিক হাসপাতাল যেন তাদের ঘরবাড়ি। আর আপনজনের অপেক্ষার পালা শেষে এখানেই হয় তাদের মৃত্যুর ঠিকানা। হাসাপাতালের হিসাব অনুযায়ী, ১৯৫৭ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা গেছেন ৬৮৪ জন মানসিক রোগী। এদের অনেকেই ছিলেন পরিবার-পরিজন থেকে যোগাযোগ বিচ্ছন্ন।

প্রোব/পি/শর/জাতীয়/১৫.০৩.২০১৫

১৬ মার্চ ২০১৫ | জাতীয় | ১৭:০৭:১৫ | ১৬:১০:৩৮

জাতীয়

 >  Last ›