A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

হেমায়েতপুর কতদূর- দুই সংকটে জর্জরিত পাবনা মানসিক হাসপাতাল | Probe News

Probe Special 3 mar 16হেমায়েতপুর কতদূর- দুই

সংকটে জর্জরিত পাবনা মানসিক হাসপাতাল

শফিক রহমান, পাবনা থেকে ফিরে: প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরের মাথায় এসেও নানা সংকটের মুখে মনোরোগ চিকিৎসায় দেশের সবচেয়ে পুরানো প্রতিষ্ঠান পাবনা মানসিক হাসপাতাল। হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরেচিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞের একাধিক পদ শুন্য রয়েছে। নার্স, আয়া ও নাপিতসহ অন্যান্য খাতেও রয়েছে জনবলের ঘাটতি। এছাড়াও অবকাঠামোগত দুর্বলতার চিত্র তুলে ধরছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

অপরদিকে যুগের বিবেচনায়বিশেষায়িত এ হাসপাতালের চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, মনোরোগের চিকিৎসা কিউরেটিভ এ্যাপ্রোচে না হয়ে ম্যানেজমেন্ট এ্যাপ্রোচে অথবা লাইফ স্টাইল এ্যাপ্রোচে হওয়া উচিত। হাসপাতালের চার দেয়ালে বদ্ধ রেখে চিকিৎসা নয়- এ জন্য দরকার পরিবার ও কমিউনিটির লোকজনের সহযোগিতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান এস এম আবুল কালাম আজাদ এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রায় ষাট বছর আগে যখন হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয় তখন মনোরোগ, রোগী এবং রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে এক ধরনের ধ্যান-ধারনা ছিল। রোগীর পরিবারের লোকেরা মনে করতেন- ‘সামাল দেয়া যাচ্ছে না, কোথাও রেখে আসি’। আর চিকিৎসকদের ধারনা ছিল ‘রোগীর পুরো দায়িত্ব নিয়ে নেই’। মূলত এ ধারনা থেকেই হাসপাতালটিতে মনোরোগের চিকিৎসা চলে আসছে।
তিনি আরো বলেন, কিন্তু আজ বিশ্ব প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়েছে। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য যেহেতু রোগীকে সাবেক জীবনে ফিরিয়ে আনা। সেহেতু তার চিকিৎসা, রিহেবিলেটেশন, মেডিটেশন, ফিজিওথেরাপি এবং অকুপেশনাল থেরাপি যাই দরকার; পরিবার আর কমিউনিটির সাহচর্যে রেখেই দিতে হবে। গোটা বিশ্বে মনোরোগীদের চিকিৎসা পদ্ধতিতে এটাই এখন মডেল।

জানা গেছে, পাকিস্তান সরকারের জনৈক সিভিল সার্জন মোহাম্মদ হোসেন গাঙ্গুলীর উদ্যোগে ১৯৫৭ সালে পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রথম বিশেষায়িত এ হাসপাতালটি। মাত্র ৬০টি বেড নিয়ে ওই বছরেই পাবনা শহরের ‘শিতলাই হাউজে’ শুরু হয় মনোরোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম। হাসপাতালের রেকর্ড অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শুরুর বছরেই মনোরোগে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ৮০জন। চিকিৎসা শেষে এদের মধ্যে থেকে ৪৪ জন ওই বছরই হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

পরবর্র্তী সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা বেড়ে আড়াই হাজার ছাড়িয়ে গেলেও সেই অনুপাতে বাড়েনি হাসপাতালের আকার, আয়তন, পরিসর এবং সেবার মান।বরং রোগীর সংখ্যার অনুপাতে হাসপাতালের চিকিৎসার মান ও সুবিধা দুটিই অপ্রতুল। এমনটি জানালেন, পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. হেদায়েতুল ইসলাম।

তার মতে, বাড়তি রোগীর এ চাপ সামাল দিতে হাসপাতালের বেডের সংখ্যা বাড়িয়ে অন্তত এক হাজার করা উচিত। একই সঙ্গে জনবল বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এদিকে জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে শিতলাই হাউজ থেকে হাসপাতালের কার্যক্রম স্থানান্তরিত হয় পাবনার হেমায়েতপুরের স্থানীয় জমিদার অনুকুল ঠাকুরের দান করা ১১১. ২৫ একর জমির ওপর। হাসপাতালের বেডের সংখ্যা তখন দাঁড়ায় ২০০টিতে। এর পরে বেডের সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয় ৪০০। সর্বশেষ ২০০৩ সালে মেন্টাল হেলথ রিসোর্স ইনস্টিটিউটের আওতায় আরো ১০০ বেড যোগ হয়ে বর্তমানে বেডের সংখ্যা ৫০০টি। মহিলা ও পুুরুষ মিলিয়ে ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৮টি। এছাড়া রয়েছে বহির্বিভাগ, আন্তঃবিভাগ, বৃত্তিমূলক ও বিনোদনমূলক চিকিৎসা বিভাগ। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, দফায় দফায় বেডের সংখ্যা বাড়ানো হলেও জনবল কাঠামো বাড়ানো হয়নি। বরং এখনও ২০০ বেডের জনবল দিয়েই চলছে ৫০০ বেডের এই হাসপাতালটি।

হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৬৬ সালের জনবল কাঠামো অনুযায়ী হাসপাতালের অনুমোদিত ৫২২টি পদের মধ্যে এই মুহূর্তে ১৩৩টি পদ শুন্য রয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা তত্ত্বাবধায়ক, ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রিক, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, আবাসিক সাইকিয়াট্রিস্ট, ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্ট, ক্লিনিক্যাল সাইক্লোজিস্ট, ডেন্টাল সার্জন, এ্যানেসথেটিস্ট এবং বায়োকেমিস্টের একটি করে পদ থাকলেও প্রতিটি পদই দীর্ঘ দিন ধরে শুন্য রয়েছে।

এছাড়া সিনিয়র কনসালটেন্টের দুইটি পদের দুইটিই শুন্য রয়েছে। ক্লিনিক্যাল এ্যাসিসটেন্টের ৯টি পদের বিপরীতে আছেন ৬জন, মেডিকেল অফিসারের ৭টি পদের বিপরীতে আছে দুই জন এবং সাইকিয়াট্রিক সোসাল ওয়ার্কার ৪জন থাকার কথা থাকলেও সেখানে রয়েছেন তিন জন।

জানা গেছে, দেশের একমাত্র এই মানসিক হাসপাতালটিতে সিনিয়র সাইকিয়াট্রিক কনসালট্যান্টদের দুটি পদ শুন্য থাকায় পাবনা মেডিক্যাল কলেজের তিনজন সহকারি অধ্যাপক সাইকিয়াট্রিক কনসালটেন্ট হিসাবে এখানে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
অন্যদিকে সিনিয়র স্টাফ নার্সের ১৪৫টি পদের মধ্যে শুন্য রয়েছে ৬টি, স্টাফ নার্সের পদ শুন্য রয়েছে ২০টি এবং সহকারী নার্সের পদ খালি রয়েছে ৭টি। এমনকি রোগীদের চুল-দাড়ি শেইভ এবং হাত-পায়ের নখ কাটার জন্যে একজন নাপিত থাকার কথা থাকলেও ওই পদটিও শুন্য রয়েছে। জানা গেছে, হাসপাতালের নিয়োগ পাওয়া নাপিত এমের আলী গত বছর মারা যাওয়ার পর তার পদটি শুন্য হয়। কিন্তু এর পরে আর ওই পদে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। আউট সোর্সিং -এর মাধ্যমে একজনকে নেয়া হয়েছে। রোগীদের চুল-দাড়ি শেইভ এবং হাত-পায়ের নখ কাটতে তিনিই এখন ভরসা।

হাসপাতালটির ক্লিনিক্যাল এ্যাসিসটেন্ট ডা. দিলারা আখতার বলেন, এটি এমন একটি হাসপাতাল সেখানে রোগীর সঙ্গে কাউকে থাকতে হয় না। আর হাসপাতালের সেবা তত্ত্বাবধায়ক পুতুল রানী রায় বলেন, সেই হাসপাতালে যদি জনবল ঘাটতি থাকে তখন চিকিৎসার মান বজায় রাখা সম্ভব হবেনা। এটাই হয়তো এক ধরনের বাস্তবতা।

তিনি আরো বলেন, মানসিক রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত এখানে নার্স, ব্রাদারসহ কর্মচারীদের রোগীদের হাতে আহত হতে হয়। কিন্তু তাদের জন্য নেই কোনো ঝুঁকিভাতা। বিশেষ করে বিগত প্রায় ৫০ বছর ধরে নার্স-ব্রাদাররা ঝুঁকিভাতার আবেদন করে আসছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রায় কাছাকাছি সময়ে হাসপাতালের রোগীদের বিছানাপত্রসহ কাপড়-চোপড় পরিষ্কারের জন্য হাসপাতাল কম্পাউন্ডেই স্থাপন করা হয় একটি লন্ড্রি প্লান্ট। নানা ত্রুটির কারনে মাঝে মাঝেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছিল লন্ড্রি প্লান্টটি। এর পরে ২০০৩ সালে হাসপাতাল কম্পাউন্ডের ৩০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।এতে পাবনা মানসিক হাসপাতালের লন্ড্রিটি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে নতুনভাবে আধুনিক লন্ড্রি প্লান্ট নির্মাণ জরুরি বলে মনে করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
নতুন অনুসঙ্গ মাদকাসক্ত রোগী

চিকিৎসকদের মতে,হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে বেশিরভাগই সিজোফ্রিনিয়ায় আক্রান্ত। এছাড়াও কারো কারো রয়েছে জেনেটিক এবং হরমোনাল কারণ। কিন্তু এর বাইরে নতুন অনুষঙ্গ হিসেবে যোগ হয়েছে মাদকাসক্ত রোগী। জানা গেছে, নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র হিসেবে ২০ শয্যার একটি ওয়ার্ড সংযুক্ত হয় হাসপাতালের সঙ্গে। প্রথম দিকে ওয়ার্ডটি নন পেয়িং হিসাবে থাকলে পরবর্তীতে তা পেয়িং ওয়ার্ড করা হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার ভিত্তিতে এক মাসের জন্য মাদকাসক্ত রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
৫৭ বছরে মোট রোগী

হাসপাতালটির হিসাব অনুযায়ী শুরু থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাবনা মানসিক হাসপাতালে ৭৪ হাজার ৬৭৩ জন মনো রোগী চিকিৎসার জন্যে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে থেকে ৬২ হাজার ১০৯ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন। আর চিকিৎসা চলাকালিন সময়ে ৬৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৫৭ সালে ৮০ জন রোগী ভর্তি হলেও এর পরের বছরেই অর্থাৎ ১৯৫৮ সালে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৫ জনে এবং ১৯৬০ সালে তা আরো বেড়ে দাঁড়ায় ৪৬৪ জনে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৭০ সালে হাসপাতালের রোগীর সংখ্যা দোঁড়ায় এক হাজার ৮১৭ জনে এবং ওই বছরে চিকিৎসা শেষে এক হাজার ৪৪২জন রোগী হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি ফিরে যান।

এদিকে এর পরের দশকেও রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে এক দশকের মাথায় এসে অর্থাৎ ১৯৮১ সালে হাসপাতালটিতে মোট দুই হাজার ৫৮১ জন ভর্তি হন এবং এদের মধ্য থেকে ২ হাজার ১৮২ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেন। ১৯৮২ সালেও ভর্তি হন ২ হাজার ২৫০ জন।এদের মধ্য থেকে ১ হাজার ৮৯৩ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেন।

এক হিসাবে দেখা যায়, এর পরের বছরগুলোতে হাসপাতালের রোগির সংখ্যা কমতে থাকে এবং ২০১৩ সালে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিতে মোট ভর্তি হন এক হাজার ২৯৭ জন এবং চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেন এক হাজার ২৯৫ জন।

প্রসঙ্গ ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র

জানা গেছে, বাংলা ১২৯৫ সালের ৩০ শে ভাদ্র পাবনা জেলা শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে হেমায়েতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র। তার পিতা শিবচন্দ্র এবং মা মনোমোহিনী দেবী। হেমায়েতপুর গ্রামেই কাটে অনুকূলচন্দ্রের শৈশব এবং কৈশর। হিমাইতপুরের পাঠশালা শেষে তিনি ভর্তি হন পাবনা ইনস্টিটিউট এবং নৈহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ে। এরপর তিনি কলকাতার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। মেডিকেল কলেজের পাঠ শেষে হিমাইতপুরে চিকিৎসক হিসাবে তার কর্মজীবন শুরু করেন এবং মানুষের শারীরিক মানসিক ও আত্মিক এই তিন রোগেরই চিকিৎসাশুরু করেন তিনি।

জানা গেছে, এর পরে তিনি সমাজের অবহেলিতদের নিয়ে গড়ে তুলেন কীর্তনের দল। একদিকেঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের এই মহিমার কথা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়তে লাগল। অন্যদিকে তিনি প্রচার করতে থাকেন যে, ‘কীর্তন মানুষের মনকে উপরের স্তরে নিয়ে যায় বটে, কিন্তু সে অবস্থা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারে না। মনের স্থায়ী উন্নতি ঘটাতে হলে দরকার সৎনাম স্মরণ। এবং সে লক্ষ্যেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘সৎসঙ্ঘ’। পরে তার আধ্যাত্মিক প্রেরণায় উদ্ভুদ্ব হয়ে দলে দলে বিভিন্ন এলাকার মানুষ এসে তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। হিমাইতপুরে তার প্রতিষ্ঠিত সৎসঙ্ঘ আশ্রম উপমহাদেশে সুপরিচিতি লাভ করে। যা আজও অক্ষুন্নরয়েছে।

১৯৬৯ সনের ২৭ জানুয়ারি ৮১ বছর বয়সে ভারতের বিহারে দেওঘরে তারই প্রতিষ্ঠিত এক আশ্রমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি মহতি সাধক। তার লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে, পুন্যপুথি, চলার সাথী, সত্যানুসরণ, নানা প্রসঙ্গে, কথা প্রসঙ্গে, বিবাহ বিধায়না, শিক্ষা বিধায়না, নিষ্ঠা বিধায়না, বিজ্ঞান বিধায়না, বিজ্ঞান বিভূতি, সমাজ সন্দিপনা ইত্যাদি।

এই ঠাকুর অনুকুল চন্দ্রের দানকৃত জমিতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাবনা মানসিক হাসপাতাল।

প্রোব/পি/শর/জাতীয়/১৫.০৩.২০১৫

১৬ মার্চ ২০১৫ | জাতীয় | ১৬:৫৮:০৫ | ১৬:৫৮:৪৪

জাতীয়

 >  Last ›