A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

শেখ হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে: তারেক | Probe News

শেখ হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত
আন্দোলন অব্যাহত থাকবে: তারেক

প্রোবনিউজ, ডেস্ক: বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আন্দোলনের গন্তব্য হাসিনার বিদায়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচন। তিনি সর্বস্তরের নেতাকর্মীর উদ্দেশ্যে বলেন, আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করুন। প্রতিটি এলাকায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলুন। যেন গণতন্ত্রের বিরোধী শক্তি ঘর থেকে বেরুতে না পারে।

৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে ঢাকাকে যেমন সারা বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছিল, এবার ঢাকার ভেতরেও এক এলাকা অন্য এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিন। যাতে করে একটি বিশেষ অঞ্চলের কোনো বাহিনী গিয়ে আন্দোলনকারী জনগণের ওপর নির্যাতন চালাতে না পারে। একইভাবে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও নিজ নিজ এলাকা বিচ্ছিন্ন করে দিন। আন্দোলন সফল না হওয়া পর্যন্ত কেউ ঘরে ফিরে যাবেন না। তিনি বলেন, এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে। আর থামিয়ে দেয়া যাবে না। এ আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। গতিশীল করতে হবে। লক্ষ্য একটি। গন্তব্যস্থল একটি। শেখ হাসিনা যেদিন বিদায় নেবে, আন্দোলনকারীরা সেদিন ঘরে ফিরবে।

রোবাবার '৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা ও কালো দিবস' উপলক্ষে ইস্ট লন্ডনের অট্রিয়াম অডিটোরিয়ামে আন্দোলনকারী জনগণের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান এ আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, “আন্দোলন শুরু হয়েছে। আন্দোলন সফল করতে হবে। এ আন্দোলন থেমে গেলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে আন্দোলনকারী তৃণমূল নেতাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই নিজে বাঁচতে, পরিবার বাঁচাতে, দেশ বাঁচাতে, জনগণ ও গণতন্ত্র বাঁচাতে চলমান এই আন্দোলনের বিকল্প নেই।”

তিনি সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের উদ্দেশে বলেন, “এ সরকারকে আর সময় দেয়া যাবে না। এ সরকার অবৈধ সরকার।”

পুলিশের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনাকে রক্ষার জন্য আর কত গুলি চালাবেন? এ পথ থেকে সরে আসুন। জনগণের ওপর গুলি চালাবেন না।”

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের দিয়ে গত ৫ জানুয়ারি অন্যায় করতে বাধ্য করা হয়েছে। এ দেশ আপনাদের কাছে জনগণের পবিত্র আমানত। এবার জনগণের পক্ষ নিন। অন্যায় আদেশ মানবেন না। নিজেদের অবস্থান পরিবর্তণ করুন।” তিনি বলেন, “এই আন্দোলন কোনো দলের নয়, এ আন্দোলন দেশ রক্ষার। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের।” তিনি এ আন্দোলনে সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে শরীক হওয়ার আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, “আমরা শেখ হাসিনার মতো ‘একটির বদলে দশটি লাশ ফেলা’র আহ্বান জানাই না। তবে এই অবৈধ সরকারের এক মন্ত্রী হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, আন্দোলনকারীদের ঘরে ঘরে ঢুকে হত্যা করতে হবে। আমি নেতাকর্মীদের সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, এরা যদি কেউ আপনাদের ঘরে ঢুকে আর যেন বের হতে না পারে। কারো কথায় বিভ্রান্ত হবেন না। বিভ্রান্তির অবকাশ নেই। যখন খবর পাবেন শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছে, ঠিক তখনই রাজপথ ছাড়বেন। তার আগে নয়। নব্বইয়ে আপনারা স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সফল হয়েছিলেন, এবারো আপনারা সফল হবেন। তবে এই আন্দোলনে নিরীহ কোনো মানুষের যাতে ক্ষতি না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।”

তারেক রহমান বলেন, “আওয়ামী লীগের সঙ্গে জনগণ নেই। তাদের সঙ্গে আছে বিশেষ অঞ্চলের কিছু র্যাব পুলিশ। এই র্যাব পুলিশ ছাড়া এদের রাস্তায় নামার মুরোদ নেই। র্যাব পুলিশ ছাড়া এরা কিছুই করতে পারবে না। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে রয়েছে দেশের জনগণ।”

তারেক রহমান তরুণদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমি তোমাদের এই নিশ্চয়তা দিতে পারি, বিএনপি আসলে ‘বেটার বাংলাদেশ’ হবে। সেই বাংলাদেশে কালো বিড়াল সাদা করা হবে না। অন্যায়কে অন্যায়, ন্যায়কে ন্যায় বলা হবে। গণতন্ত্রের কথা বলে অন্য দলের ওপর জেল-জুলুম করা হবে না। স্বাধীনতার চেতনার কথা বলে ক্রেস্টের স্বর্ণ চুরি করা হবে না। অন্যায়ের সমালোচনা করলে গণমাধ্যম বন্ধ করা হবে না। বাক-স্বাধীনতা হরণ করা হবে না। ফেসবুকে সমালোচনার জন্য জেল-জুলুম হবে না।”

তারেক রহমান বলেন, “আজ বাংলাদেশে গণতন্ত্র বন্দী। দুর্নীতি, দুঃশাসন, জুলুম নির্যাতনে মানুষ অসহায়। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীক। তাকে অন্তরীণ করে রাখা হয়েছে।”

তিনি ছাত্রদল-যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “তোমাদের মাকে যদি তোমাদের কাছে আসতে দেয়া না হয়, সন্তান হিসেবে তোমাদের উচিত মাকে মুক্ত করা।”

তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, দেশ মাতৃকা আজ অবরুদ্ধ। বাকশালীদের হাত থেকে দেশ মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্র মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।”

তিনি বলেন, “এই জানুয়ারি মাসেই শেখ মুজিবুর রহমান গণতন্ত্র হত্যা করেছিলেন, বাকশাল কায়েম করেছিলেন। হরণ করেছিলেন মানুষের বাক স্বাধীনতা। সেই জানুয়ারি মাসেই পিতার মতো শেখ হাসিনা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন।”

তারেক রহমান বলেন, “শেখ হাসিনা সরকার অবৈধ সরকার। দুর্নীতিবাজ সরকার।”
তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর বন্ধু প্রতীম ভারত থেকে একজন কর্মকর্তা শেখ মুজিবের কাছে এসেছিলেন। শেখ মুজিবকে তিনি জানিয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগৃহীত কিছু টাকা ভারত সরকারের কাছে রয়েছে। এই টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে ফেরত আনতে শেখ মুজিবকে নিয়মানুযায়ী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি আহ্বান জানান। কিন্তু প্রতি-উত্তরে শেখ মুজিব ব্যাংকের মাধ্যমে না এনে এসব টাকা বস্তায় ভরে ট্রাকে পাঠানোর প্রস্তাব দেন এবং বলেন, এসব টাকা তিনি পরবর্তী নির্বাচনে খরচ করবেন।” এ তথ্য প্রমাণের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, “এটি প্রমাণ করে শেখ মুজিব বাংলাদেশে প্রথম দুর্নীতিকে ভিত্তি দিয়েছিলেন। শেখ মুজিবের মতো তার কন্যাও একই পথ অনুসরণ করছে।”
যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এ প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস। সভা পরিচালনা করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ।

তারেক রহমান আরো বলেন, “শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। জনগণের চাওয়া ছিল একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন। কিন্তু তারা জানে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিজয় লাভ করতে পারবে না। এ কারণে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোর খাটিয়ে সংবিধান সংশোধন করে ৫ জানুয়ারি তামাশার নির্বাচন করেছিল। তারা জানে, গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে বিডিআর বিদ্রোহের নামে মুখোশধারীরা যেভাবে বাংলাদেশের গর্ব মুক্তিযুদ্ধের গর্ব সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করেছিল, এর বিচার হবে। তারা জানে, কুইক রেন্টালের নামে বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে, তার বিচার হবে। তারা জানে, আইটি সেক্টরে দুর্নীতির মাধ্যমে শেখ হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় উপদেষ্টা পরিচয়ে কোটি কোটি টাকা পাচার করেছেন, তারও বিচার হবে। তারা জানে, বিএনপিসহ বিরোধী জোটের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। এর বিচার হবে। তারা জানে, হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের খুন-হত্যা করা হয়েছে। এর বিচার হবে। সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যার বিচার হবে। এ কারণেই তারা মানুষ খুন করে গুম করে ক্ষমতা দখল করে রাখতে চায়।”

নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, “তোমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চেয়েছিলে। কিন্তু তোমাদের সেই আশা কী সফল হয়েছে? তোমরা আর কত ঠকতে চাও। তিনি তরুণদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু ফেসবুক নয়, রাজপথের আন্দোলনেও শরীক হতে হবে।”

তিনি বলেন, “এই সরকারের আমলে দুদক কালো বিড়ালকে সাদা করে। দুর্নীতিবাজকে সার্টিফিকেট দেয়। পদ্মা সেতুর দুর্নীতিবাজদেরকে এই দুদক সাদা বিড়াল বানায়। পদ্মা সেতুর আসল দুর্নীতিবাজ শেখ হাসিনার চোখে সেরা দেশপ্রেমিক। এই হলো শেখ হাসিনার দেশপ্রেম।

এরা কথায় কথায় স্বাধীনতার চেতনার কথা বলে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে। আসলে এর কোনোটিতেই তারা বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগ মূলত রাজাকারের দল। বাংলাদেশের বহু রাজাকার এই দলে রয়েছে। এমনকি শেখ হাসিনার ঘরেও রয়েছে নামকরা রাজাকার। রাজাকারদের সঙ্গে সখ্যতা তাদের দীর্ঘদিনের।”

তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য বিদেশী বন্ধুদের সম্মাননা দেয়া হয়েছিল। সেই সম্মাননা ক্রেস্টের সোনা ও রূপাও তারা চুরি করেছে। প্রকাশ্যে সেই চোরদের পক্ষ নেন শেখ হাসিনা।”

তিনি বলেন, “শেখ মুজিব রক্ষী বাহিনী তৈরি করে সেনাবাহিনী ধ্বংস করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার মেয়ে শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে সেনা বাহিনীর ৫৭ কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যা করেছেন। যারা এই হত্যার তদন্ত চেয়েছে তাদেরকে চাকরিচ্যুত করেছেন। এদের অনেককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এভাবে সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা ও চাকরিচ্যুতির মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন শেখ হাসিনা।”

তিনি বলেন, “এই সরকার শিক্ষাঙ্গণগুলোকে ছাত্রলীগের লুট ও অবৈধ ব্যবসা কেন্দ্রে পরিণত করেছে। শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারছে না। শেখ হাসিনার এ ব্যাপারে কোনো আগ্রহ নেই। কারণ তার পরিবারের সদস্যরা কেউ দেশে পড়াশুনা করেনি। এজন্য দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেলেও তার কিছু আসে যায় না।”

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “আপনারা যারা এ অবৈধ সরকারের পক্ষ অবলম্বন করেন, তাদের কাছে আমি নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা আশা করি না। কিন্তু আপনারা কী নিজেদের কখনো প্রশ্ন করেছেন, কেন আপনারা আপনাদেরই সহকর্মী সাগর-রুনী হত্যার বিচার চাইতে পারেন না? সেই বাস্তবতায় আমি আপনাদের কাছে নিরপেক্ষতা নয়, সাগর-রুনির নিষ্পাপ সন্তান মেঘের দিকে তাকিয়ে হলেও বস্তনিষ্ঠ তথ্য আশা করি।”

তিনি বলেন, “এ সরকার বিচার বিভাগকেও ধ্বংস করছে। এ সরকারের আমলে একজন প্রধান বিচারপতি একজন রাজনৈতিক নেতার কবর জিয়ারত করেছিলেন। সেখানে তিনি মন্তব্য বইয়ে ওই রাজনৈতিক নেতার আদর্শ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন। এ অবস্থায় নিরপেক্ষ বিচার সম্ভব কি-না এটি জনগণের প্রশ্ন।”

প্রোব/পি/রাজনীতি/০৫.০১.২০১৫

৫ জানুয়ারী ২০১৫ | রাজনীতি | ১০:২৩:০১ | ১৭:৪৬:২৩

রাজনীতি

 >  Last ›