A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

শেখ হাসিনার কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিরাপদ নয়: তারেক | Probe News

শেখ হাসিনার কাছে বাংলাদেশের

স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিরাপদ নয়: তারেক

প্রোবনিউজ, ডেস্ক: বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন,“শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জন্য আর নিরাপদ নন, তার কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিরাপদ নয়, গণতন্ত্র নিরাপদ নয়, নিরাপদ নয় বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ ।”

‍তিনি বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ একটি অশুভ শক্তি। সন্ত্রাসী, ব্যাংক লুটেরা ও দুর্নীতিবাজরাই শেখ হাসিনার কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য। যিনি যতো খারাপ কথা বলেন, শেখ হাসিনার কাছে তিনি ততো প্রিয়।”

‘বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বিশ্বনেতা শহীদ জিয়াউর রহমান: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সোমবার পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিনে ইয়র্ক হলে যুক্তরাজ্য বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করে।

তিনি বলেন, “বর্তমান অবৈধ সরকারের দীর্ঘদিন ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার পরিকল্পনা কল্পনায় পরিণত হতে আর খুব বেশি সময় নেই। দেশের জনগণ তাদের সঙ্গে নেই। বিদেশের কাছে ধর্ণা দিয়েও অবৈধ সরকারের বৈধতার সার্টিফিকেট আনতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিএনপি প্রতিদিনই আওয়ামী লীগের দুরাচার অনাচার আর গণতন্ত্রহীনতার কথা তুলে ধরছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের কাছে এটি আন্দোলন মনে হচ্ছে না। তাদের কাছে অন্দোলন মানে লগি বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করা। আওয়ামী লীগ যে বিএনপির আন্দোলন টের পাচ্ছে না এটিও বিএনপির অন্দোলনেরই অংশ। যখন টের পাওয়া শুরু করবে তখন তাদের পালানোর পথ থাকবে না।”

সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, “যারা শেখ মুজিব হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল, জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বহীন মিডিয়ানির্ভর সেই ব্যক্তিদের নিয়ে হীন রাজনৈতিক স্বার্থে শেখ হাসিনা এখন জিয়াউর রহমান ও তার পরিবার এবং বিএনপিকে অপপ্রচারের টার্গেট করেছে।”

তিনি বলেন, “অপপ্রচার চালিয়েও শেখ হাসিনা শিকাগোতে জিয়াউর রহমানের নামে সড়কের নামকরণ ঠেকাতে পারেননি।”

সমাবেশে তারেক রহমানের হাতে সম্প্রতি শিকাগো সিটি প্রশাসন কর্তৃক স্থাপিত অনারারি জিয়াউর রহমান ওয়ে‘র একটি নামফলক হস্তান্তর করা হয়। নামফলক হস্তান্তর করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনর সেক্রেটারি অব স্টেটের জেসিহোয়াইট কাউন্সিলের সদস্য ও জিয়াউর রহমান ওয়ে‘র প্রস্তাবক শাহ মোজাম্মেল নান্টু।

তারেক রহমান বলেন, “দেশে বিদেশে জিয়াউর রহমানের অবদান স্বীকৃত হচ্ছে। জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্মের স্বীকৃতির জন্য আদালতের রায়ের প্রয়োজন নেই।”

এই সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস। সভায় আরো বক্তৃতা করেন, বৃটেন সফরররত বিএনপি চেয়ারপারসনের অন্যতম উপদেষ্টা বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম এ মালেক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম, তারেক রহমানের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অ্যাসিসট্যান্ট প্রেস সেক্রেটারি মুশফিকুল ফজল আনসারী প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন যুক্তরাজ্য বিএনপি‘র সাধারণ সম্পাদক এম কয়সর আহমেদ।

সমাবেশে তারেক রহমান প্রায় একঘণ্টা ২০মিনিট বক্তৃতা করেন। বক্তৃতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভুমিকা, শেখ মুজিবের হত্যাকান্ড ও পুর্বাপর পরিস্থিতি এবং দেশের সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে নিয়ে কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, কোনো একটি সরকারের নৈতিক ও আইনগতভিত্তি দুর্বল হলে এবং জনসমর্থন না থাকলেই সরকার আইনের দোহাই দিয়ে বেআইনিভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আসলে এই সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা নেই, সরকারও জনগনের আস্থার তোয়াক্কা করছে না। তাদের একমাত্র ভরসা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাকে তাদের কতিপয় দলীয় ক্যাডার। আর যুবলীগ ছাত্রলীগের নামে সরকারের দলীয় সন্ত্রাসীবাহিনী।” তিনি সম্প্রচার আ্ইনেরও তীব্র সমালোচনা করেন।

তিনি অভিযোগ করেন “হুমকি-ধামকি কিংবা হামলা-মামলা করে সরকার জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। কথায় কথায় আইনের দোহাই দিয়ে বেআইনী কাজে লিপ্ত রয়েছ। রাজপথে সরকারের অগণতান্ত্রিক কাজের প্রতিবাদ করলে একদিকে তারা বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গুলির ভয় দেখাচ্ছে অপরদিকে অহেতুক অভিযোগে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।”

তারেক রহমান বলেন, “জাতিসংঘ যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে স্বীকৃতি দিয়েছে হাসিনার এমন মিথ্যাচারেরও জবাব দিয়েছে দেশগুলো। এতে হাসিনা লজ্জা না পেলেও দেশের নাগরিকরা বিব্রত। হাসিনা এখন জঙ্গি জুজুর ভয় দেখাচ্ছেন। এটি হাসিনার কুটকৌশল। তার বাবাও নিজেদের ব্যর্থতা ডাকতে জনগণকে নকশালের ভয় দেখাতেন।”

তারেক রহমান অভিযোগ করেন বলেন, “হাসিনা থাকলেই বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করতে চায়। এবারও জাতিসংঘে গিয়ে তিনি সেটি করে এসেছেন। বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ জঙ্গিবাদ সমর্থন করে না। তাই বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদমুক্ত রাখতে হলে দলমত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে হাসিনার বিরুদ্ধে গনঅঅন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়া এখন সময়ের দাবি।”

তারেক রহমান বলেন, “আওয়ামী লীগ কখনোই জনগণের মনের ভাষা বুঝতে পারেনি। তারা ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ কিংবা ২৫ মার্চেও স্বাধীনতাকামী জনগণের ভাষা বোঝেনি। তেমনি বুঝতে পারেনি স্বাধীনতার পরও। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী লাখো জনতাকে নিরাপদ মনে করেনি শেখ মুজিব, তিনি নিরাপদ মনে করেছেন হানাদার বাহিনীকে।”

তিনি বলেন, “শেখ মুজিব কিংবা শেখ হাসিনা তারা কখনোই জনগণের সমর্থনের ওপর ভরসা রাখেনি। এ কারণে শেখ মুজিবের স্বীকৃতি আদায়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।”

তারেক রহমান আবারো অভিযোগ করে বলেন, “১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে ফেরেন শেখ মুজিব। এসেই মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রকে পরিবর্তন করে রাষ্ট্রপতি থেকে দুইদিন পরই প্রধানমন্ত্রী হয়ে যান। সংবিধানের এতবড় মৌলিক পরিবর্তনের সময়ও তিনি জনগণের মুখোমুখি হওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি।”

তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ চুড়ান্তভাবে স্বাধীন হওয়ার পর যিনিই পাকিস্তানের পাসপোর্ট গ্রহণ করেন আইনের দৃষ্টিতে তিনি সেই দেশেরই নাগরিক। একজন পাকিস্তানের নাগরিক কিভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধানমন্ত্রী হলেন, আজ হোক কাল হোক সেই প্রশ্নের জবাব অবশ্যই জনগণকে দিতে হবে। গলাবাজি করে, র‌্যাবের বন্দুকের ভয় দেখিয়ে কিংবা মন্ত্রী পাঠিয়ে বই পুড়িয়ে ইতিহাসের সত্য আড়াল করা যাবে না।”

তারেক রহমান বলেন, “৭ মার্চে পাকিস্তানের পক্ষে শ্লোগান দিয়ে শেখ মুজিব বক্তৃতা শেষ করেছেন। ২৫ মার্চে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছেন, এটি তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার দলিল হয়ে থাকবে। এরপর তিনি স্বাধীনতাকামীদের নাকে তেল দিয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দিয়েছেন। সঙ্গত কারণেই বলা যায়, শেখ মুজিব ‘বঙ্গবন্ধু’ নন ‘পাকবন্ধু’।”

তারেক রহমান আরো বলেন, “শেখ মুজিব ৭ মার্চ কিংবা ২৫ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে মুক্তিযুদ্ধে এতলোক মারা যেতোনা। যার অদূরদর্শিতা কিংবা আপসকামিতার ফলে মুক্তিযুদ্ধে এত লোকের প্রাণহানি হয়েছে তিনি ‘জাতির জনক’ হতে পারেন না। ”

সভায় তারেক রহমান ১৯৭৩ সালে তৎকালীন ছাত্রনেতা বর্তমানে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলামের একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন, “৭৩ সালে ৩ জানুয়ারি দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়, দেশের জনগণ এবং গণমাধ্যমের কাছে মুজাহিদূল ইসলাম সেলিম আহবান জানিয়ে বলেছিলেন, ছাত্র হত্যার অভিযোগে শেখ মুজিবের সব পদবি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। কেউ যেন শেখ মুজিবের নামের আগে ‘বঙ্গবন্ধু’ কিংবা ‘‘জাতির জনক’ না বলেন, না লেখেন।”

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবের ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবের দুঃশাসনে আওয়ামী লীগের গর্ব করার কিছু নেই। বরং শেখ মুজিব আওয়ামী লীগকে সাংবিধানিকভাবেই নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন। এখন শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডই আওয়ামী লীগের রাজনীতির একমাত্র পুঁজি।”

 

তারেক রহমান বলেন, গত কয়েক মাস তিনি বেশ কয়েকটি বক্তৃতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ এবং এর পুর্বাপর ঘটনা এবং ইতিহাস বিকৃতির আড়ালে পড়ে থাকা কিছু কঠিন সত্য তুলে ধরেছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তির বিপরীতে কিছু ব্যক্তির লম্পঝম্প করেছে। কারণ তাদের কোনোা যুক্তি নেই। আবার যুক্তি দিলেও শেখ হাসিনার কাছে মুক্তি নেই।

তিনি বলেন, “ইতিহাসের কোনো সত্য শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে গেলেই আওয়ামী লীগ এবং তাদের অনুগতরা তাকেই রাজাকার হিসেবে অপপ্রচার চালায়। তারা এরইমধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ১১ জন সেক্টর কমান্ডারের কমপক্ষে ছয়জনকে রাজাকার অপবাদ দিয়ে ফেলেছে। তিনি বলেন, একটি বই লিখে মুক্তিযুদ্ধের উপ অধিনায়ক একে খন্দকার রাজাকার, আর বেয়াই খন্দকার কিংবা নুরা খন্দকার নির্দোষ।”

তারেক রহমান বলেন, “ধীরে ধীরে ইতিহাসের সত্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। হুমকি-ধামকি কিংবা র‌্যাবের বন্দুকের ভয় দেখিয়ে সত্য আড়াল করে রাখা যায় না।”

তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী-বাকশালী নেতা ও বুদ্ধিজীবীদের অপপ্রচার সত্ত্বেও জিয়াউর রহমান এখন দেশে বিদেশে গণতন্ত্রমনা চিন্তাশীল মানুষের কাছে ক্রমেই আরো বেশি গ্রহণীয় ও বরণীয় হয়ে উঠছেন। কারণ জিয়াইর রহমান তার স্বল্প কর্মময় জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফল। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি প্রতিকূল পরিবেশকে জয় করেছেন সততা সাহস মেধা দক্ষতা ও যোগ্যতা সর্বোপরি নিখাদ দেশপ্রেমের চেতনায়। অন্য কোনো নেতা যেখানে জনগণকে ব্যবহার করেছেন ক্ষমতায় যাওয়া কিংবা নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার সিঁড়ি হিসাবে, সেখানে জিয়াউর রহমান নিশ্চিত করেছেন জনগণের ক্ষমতায়ন।”

তিনি বলেন, “স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে জিয়াউর রহমান একটি অবিসংবাদিত নাম। ২৫ মার্চ হঠাৎ করেই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। হঠাৎ করেই তিনি মুক্তিযুদ্ধে জীবনবাজী রাখেননি। বাংলাভাষা ও তৎকালীন সময়ে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের চেতনা তিনি লালন করেছেন ছাত্রাবস্থা থেকেই। তারেক রহমান জিয়াউর রহমানের “একটি জাতির জন্ম“ শিরোনামে ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ সংখ্যায় দৈনিক বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত একটি নিবন্ধের উদ্ধৃতি দেন। সেখানে জিয়াউর রহমান লিখেন, ‘স্কুলজীবন থেকেই পাকিস্তানিদের দৃষ্টিভঙ্গির অস্বচ্ছতা আমার মনকে পীড়া দিতো। আমি জানতাম, অন্তর দিয়ে ওরা আমাদের ঘৃণা করে।...বাঙালিদের বিরুদ্ধে একটা ঘৃণার বীজ উপ্ত করে দেওয়া হতো স্কুলছাত্রদের শিশু মনেই। ...সেই স্কুলজীবন থেকেই মনে মনে আমার একটা আকাংক্ষাই লালিত হতো, যদি কখনো দিন আসে, তাহলে এই পাকিস্তানবাদের অস্তিত্বেই আমি আঘাত হানবো ,পাকিস্তানি পশুদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার, দুর্বারতম আকাঙ্ক্ষা দুর্বার হয়ে উঠতো মাঝে মাঝেই। উদগ্র কামনা জাগতো পাকিস্তানের ভিত্তি ভূমিটাকে তছনছ করে দিতে। কিন্তু উপযুক্ত সময় আর উপযুক্ত স্থানের অপেক্ষায় দমন করতাম সেই আকাঙ্ক্ষাকে।’ এই কারণেই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ শেখ মুজিব ভুল করলেও জিয়াউর রহমান ভুল করেননি। পাকিস্তানিদের পরাস্ত করার মোক্ষম সুযোগ পেয়েই তিনি চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দেন। নিজের হাতে লিখে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ঝাঁপিয়ে পড়েন স্বাধীনতা যুদ্ধে।”

তারেক রহমান বলেন, “বিচারপতি সায়েমের পদত্যাগের পর ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। সেখানেও তিনি সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ ঘুচাতে সক্ষম হন। বর্তমানে যে দু’টি খাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে, গার্মেন্ট শিল্প ও জনশক্তি রফতানি, এই দুই খাতেরই সূচনাও জিয়ার রহমানের সময় থেকেই।”

তিনি বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অনেক গণমুখী কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ শুরু করে উন্নয়নের পথে নিরন্তর যাত্রা।”

তারেক রহমান বলেন, “শহীদ জিয়ার সাফল্যের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে না পেরে ষড়যন্ত্রকারীরা এখন জিয়ার ইমেজ বিনষ্টের চক্রান্তে লিপ্ত।”

তারেক রহমান বলেন, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়। সেই সময় আওয়ামী লীগ ছিল বিলুপ্ত। আর বিএনপির জন্মই হয়নি। শেখ মুজিব হত্যার পর তার মন্ত্রিসভার সদস্য বাকশাল নেতা খোন্দকার মুশতাক আহমদের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। এরপর ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ মোশাররফের ভাই ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সংঘটিত এক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন মুশতাক আহমদ। মুশতাককে সরিয়ে খালেদ মোশাররফ রাষ্ট্রপতি বানান শেখ মুজিবের নিয়োগ করা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি সায়েমকে। একইসঙ্গে মুশতাকের জারী করা সামরিক শাসনের আওতায় ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকও নিযুক্ত হন বিচারপতি সায়েম। এর আগে ৭৫ সালের ৩ নভেম্বর তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করেন খালেদ মোশাররফ। এরপর খালেদ নিজেই নিজেকে সেনাপ্রধান ঘোষণা করেন। কিন্তু খালেদের ক্ষমতা ভোগ করার সৌভাগ্য হয়নি। তিনিও নিহত হন।”

তারেক রহমান বলেন, “কেন কিভাবে খালেদ মোশাররফ নিহত হয়েছিলেন এটি সেই সময়কার জঙ্গি নেতা ইনুকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে।”

তিনি বলেন, “শেখ মুজিব সম্পর্কে তৎকালীন জঙ্গি নেতা বর্তমানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এক সাক্ষাৎকারে বলছিলেন, `শেখ মুজিবুর রহমান গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অক্ষম ছিলেন, তিনি বিরোধী আন্দোলনে ভীত হয়ে পড়তেন। মানুষের ওপর তিনি একরকম জোরজবরদস্তি চালাচ্ছিলেন, তার মধ্যে সমালোচনা বা বিরোধিতা সহ্য করার শক্তি ছিল না'।”

প্রোব/পি/রাজনীতি/৩০.০৯.২০১৪

 

৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ | রাজনীতি | ১৪:০১:২২ | ১৪:১০:০৬

রাজনীতি

 >  Last ›