A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

স্ইুসব্যাংক থেকে মালয়েশিয়ার ‘সেকেন্ড হোম প্রোগ্রাম’ মুদ্রা পাচার রেকর্ড গতিতে বাড়ছে এক দশকে অর্থের বিনিময়ে নাগরিকত্ব নিয়েছেন ২৮৫০ বাংলাদেশী | Probe News

সুইসব্যাংক থেকে মালয়েশিয়ার ‘সেকেন্ড হোম প্রোগ্রাম’
মুদ্রা পাচার রেকর্ড গতিতে বাড়ছে
এক দশকে অর্থের বিনিময়ে নাগরিকত্ব নিয়েছেন ২৮৫০ বাংলাদেশী

 

Money laundaring 2প্রোবনিউজ, ঢাকা: সুইস ব্যাংক সাম্রাজ্যে ২০০৪ সালে বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদের আমানত ছিল ৩৬৯ কোটি টাকা। আর নয় বছর পর ২০১৩ সালে বাংলাদেশী উৎস থেকে আমানতের অংক দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা। এক দশকেরও কম সময়ে অর্থ পাচারের বৃদ্ধি পায় নয় গুণ।
সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকসূত্রে প্রকাশিত গত ২০ জুনের এই সংবাদের পরই মালয়েশিয়ার ‘মাই সেকেন্ড হোম’ প্রোগ্রাম সূত্র জানিয়েছে, গত এক দশকে সেদেশে ২ হাজার ৮৫০ বাংলাদেশী অর্থের বিনিময়ে নাগরিকত্ব নিয়েছেন। মালয়েশিয়ার এই নাগরিকত্ব কর্মসূচিতে নির্বাচিত হতে বাংলাদেশীরা ক্ষেত্র বিশেষে প্রত্যেকে এক থেকে তিন লাখ মালয়েশিয় রিংগিত পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছেন। সাধারণভাবে এক রিংগিত সমান ২৪ বাংলাদেশী টাকা।
উল্লেখ্য, সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংকসূত্রে জানা গিয়েছিল, ২০১২ সালের চেয়ে পরবর্তী বছরে সেখানে বাংলাদেশীদের আমানত বেড়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশ। আর মালয়েশিয়ার ‘সেকেন্ড হোম’ সূত্রে জানা যায়, সেখানে ২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো মাত্র ৩২ জন বাংলাদেশী ‘বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব’-এর জন্য নির্বাচিত হলেও পরবর্তী বছরগুলোতে তা কয়েকগুণ করে বাড়তে থাকে।
২০০৪ সালে এই কর্মসূচিতে যুক্ত হন ২০৪ জন বাংলাদেশী- অর্থাৎ পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে প্রায় ছয় গুণ বেশি। ২০০৫ সালে অনুরূপভাবে নির্বাচিত হন ৮৫২ জন বাংলাদেশী। এভাবে বছর বছর বাংলাদেশী ধনাঢ্যদের কাছে মালয়েশিয়ায় টাকা স্থানান্তরের এক আকর্ষণীয় স্থান হয়ে ওঠে। এ বছরের প্রথম তিন মাসেই কেবল ৯৫ জন বাংলাদেশী সেখানে নাগরিকত্ব পেতে ‘বিনিয়োগ’ করেছেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে শুরু হওয়া মালয়েশিয়ার এই কর্মসূচিতে বিশ্বব্যাপী যত ‘বিনিয়োগকারী’ আবেদন করে নির্বাচিত হয়েছেন তার প্রায় ১১ শতাংশই বাংলাদেশী ধনীরা।
এদিকে সুইসব্যাংক কিংবা মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোম ছাড়াও নানানভাবে দেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা পাচার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকাররা। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সুনির্দিষ্ট তথ্যের পরও এসব বিষয়ে এখনো প্রতিরোধমূলক কোন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে বলে জানা যায় না।
বাংলাদেশ থেকে বিদেশে টাকা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি লাগলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র বলছে, মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম কর্মসূচিতে টাকা পাঠাতে কেউ তাদের অনুমতি নেয়নি। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, নিশ্চিতভাবেই তথাকথিত বিনিয়োগকৃত এই অর্থ সেখানে পাচার করা হয়েছে হুন্ডি বা চোরাচালান প্রক্রিয়ায়।
যদিও বাংলাদেশে মুদ্রা পাচার বিষয়ে একটি আইন এবং জাতীয়ভিত্তিক একটি সমন্বয় কমিটি রয়েছে কিন্তু সুইসব্যাংক কিংবা মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোমের মতো কর্মসূচিগুলোতে কীভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে; তা নিয়ে কখনো সরকারি তরফ থেকে কোন প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে শোনা যায় না।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মুদ্রা পাচার বিষয়ক তথ্য আদান-প্রদানকারী আন্তঃরাষ্ট্রীয় এগমন্ট গ্র“পেরও সদস্য বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, সুইসব্যাংক সাম্রাজ্যে বাংলাদেশীদের অর্থপাচারের বছরওয়ারী হিসাব ছিল নিম্নরূপ:
২০০৪ সালে ৩৬৯ কোটি টাকা, ২০০৫ সালে ৮৭৩ কোটি টাকা, ২০০৬ সালে ১ হাজার ১১৬ কোটি টাকা, ২০০৭ সালে ২ হাজার ১৮৭ কোটি টাকা, ২০০৮ সালে ৯৬৩ কোটি টাকা, ২০০৯ সালে ১ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা, ২০১০ সালে ২ হাজার ১২৪ কোটি টাকা, ২০১১ সালে ১ হাজার ৩২০ কোটি টাকা, ২০১২ সালে ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা এবং ২০১৪ সালে ৩ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা।
প্রোব/আপা/পি/অর্থনীতি/২২.০৬.২০১৪

২২ জুন ২০১৪ | অর্থনীতি | ১৭:৩৯:৫২ | ১৩:১৪:২৫

অর্থনীতি

 >  Last ›