A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

মাঠ দখলের চুড়ান্ত পরিকল্পণার বাস্তবায়ন চলছে | Probe News

P1060018.JPG

 মাঠ দখল

 চুড়ান্ত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন চলছে

 প্রোব নিউজ, ঢাকা: রাজধানীর ধানমন্ডি মাঠ রক্ষায় হাইকোর্টের নির্দেশ এবং এলাকাবাসীর প্রতিবাদ উপেক্ষা করে মাঠ জুড়ে চলছে খনন কাজ। রাতের আঁধারে স্ক্যাভেটরের আঘাতে দুর্বায় ঢাকা সবুজ মাঠের বুক এখন এবড়ো থেবড়ো। শেখ জামাল ক্লাবের সভাপতি মঞ্জুর কাদেরের দাবি ক্রিড়া কমপ্লেক্স নির্মান হলেও মাঠ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে এটুকুও জানা নেই মাঠটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, প্রায় দুই ধরে রাতের আঁধারে মাঠ জুড়ে চলছে খনন কাজ। স্ক্যাভেটর দিয়ে মাঠের বুক চিড়ে তৈরি করা হয়েছে বড় বড় গর্ত। জড়ো করা হয়েছে ইট, বালু, রড, মিক্সার মেশিন। মূল ফটকে তালা। বসানো হয়েছে পাহাড়াদার। বাইরের কাউকেই ঢুকতে দেয়া হচ্ছেনা।
এদিকে মাঠ দখল করে এভাবে খনন কাজ চালানোকে বেআইনী বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. মফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘উন্মুক্ত উদ্যান ও জলাধার সংরক্ষণ আইনের বিধান মতে মাঠটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। এর পরও কেউ মাঠ দখল করলে তা বেআইনী’।
ধাপে ধাপে দখল
dhanmondi posterতবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সম্পত্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ক্লাব কর্তৃপক্ষের মাঠ দখলের এ প্রক্রিয়া নতুন নয়। ১৯৫২ সালে পূর্ব পাকিস্তান গণপূর্ত বিভাগ ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা প্রকল্প হাতে নেয়। ১৯৬৫ সালে মাঠটির রক্ষণা বেক্ষনের দায়িত্ব দেয়া ঢাকা সিটি করপোরেশনকে। এরও আগে অর্থাৎ, ১৯৬২ সাল থেকেই মাঠটি দখল করে রেখেছে ধানমন্ডি ক্লাব। সিটি কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতি ছাড়াই মাঠের এক অংশ জুড়ে নির্মান করেছে ক্লাব অফিস। দখলে রেখেছে মাঠের বড় একটি অংশ। এছাড়াও ক্লাব কর্তৃপক্ষ কোরবানির সময়ে মাঠে বসিয়েছে পশুর হাট। ২০০৭ সাল থেকে টানা কয়েক বছর বসিয়েছে আমের মৌসুমে ‘আম মেলা’; রমজান মাসে ‘খেঁজুর মেলা’; ‘তাঁতবস্ত্র মেলা’ এবং ফরমালিন মুক্ত মাছের দোকান। ওই সময়ে সাপ্তাহিক প্রোব নিউজ ম্যাগাজিনে এ নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন ছাপা হলে বন্ধ হয় এসব কাজ। ওই সময়েই ক্লাব কর্তৃপক্ষের এ ধরনের কাজকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করেছিলেন সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খলিল আহমেদ। তিনি জানান, বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৪৩৪ ধারায় এ ধরনের অপরাধে এক বছরের কারাদন্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ঢাকা সিটি করপোরেশন অর্ডিনেন্স ১৯৮৩ এর ১১৫/২ ধারায় এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদেরও বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি মাঠ জুড়ে নতুন করে খনন কাজ শুরু হলেও রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ রয়েছে মাঠটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। মাঠটির দখল নিয়ে নোংরা রাজনীতি চলছে- এমন মন্তব্য করে দায়িত্ব শেষ করেছে সংস্থাটির সম্পত্তি বিভাগ।
20এ প্রতিবেদকের কাছ থেকে মাঠে খনন কাজ চালানোর খবর শুনে সংস্থাটির অঞ্চল-১ এর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরুল চৌধুরী যেন আকাশ থেকে পড়লেন। বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে অঞ্চলের প্রকৌশল বিভাগ জেনে থাকতে পারেন।’
এ বিষয়ে অঞ্চল-১ এর নির্বাহী প্রোকৌশলী আবুল কালাম মোহাম্মদ আজাদ বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরশন ধানমন্ডি মাঠে কোন খনন কাজ চালাচ্ছে না।’
তারপরও প্রতি রাতে মাঠ জুড়ে চলছে খনন কাজ। আর এ কাজকে ¯্রফে দখলবাজি বলে উল্লেখ করেছেন ধানমন্ডি পরিবেশ উন্নয়ন জোটের কেন্দ্রীয় নেতা এবং বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সাবেক সভাপতি মোবাশ্বের হোসেন। তিনি বলেন, ‘রাজধানীতে নানা প্রক্রিয়ায় দলখবাজি চলছে। কেউ করছেন মসজিদ-মাদ্রাসার নামে। কেউ রাজনৈতিক দলের ব্যানারে। কিন্তু ধানমন্ডি মাঠটি দখল হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের নামে’।
দৃশ্যপটে শেখ জামাল ক্লাব
জানা গেছে, ২০০৯ সালের ১৮ই আগস্ট ধানমন্ডি ক্লাবের নাম পরিবর্তন করে ‘লে. শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেড’ করা হয়। শুধু নামই পরিবর্তন নয়। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেডের ব্যানারে মাঠ জুড়ে সামাজিক ক্লাব নির্মানের সিদ্ধান্ত নেয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ। এক একর ৬২ শতাংশ আকারের এ মাঠের অর্ধেক জুড়ে ৬ তলা বিশিষ্ট কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষের। এ ভবনে থাকছে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং, ক্যান্টিন, খেলোয়ারদের জন্য ডরমেটোরি, অডিটোরিয়াম, কনফারেন্স রুম, পরিচালকদের বোর্ড রুম, টেবিল টেনিস খেলার ব্যবস্থা। এছাড়াও কমপ্লেক্স ভবনের পাশে নির্মাণ করা হবে ব্যাডমিন্টন ও লন টেনিস কোর্ট। সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য নির্মিতব্য অডিটোরিয়াম ভাড়ায় করতে পারবে যে কেউ। বর্তমানে মাঠের দক্ষিণ পাশে একটি মাত্র গেট রয়েছে। ভবন নির্মিত হলে পশ্চিম ও উত্তর পাশে আরো দুটি গেট বানানো হবে।
42তবে এ যাত্রায় মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে দুটি টেনিস কোর্ট, দুটি ব্যাডমিন্টন কোর্ট, একটি বাস্কেট বল কোর্ট নির্মান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মঞ্জুর কাদের। এসব নির্মান হলেও মাঠ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলেও দাবি করছেন তিনি। ধানমন্ডি মাঠ নিয়ে সৃষ্ট এ পরিস্থিতিতে দুই এক দিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করার কথাও জানান মঞ্জুর কাদের।
তবে এরও আগে মাঠটি দখল মুক্ত করতে ২০০৪ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট হাইকোর্টে রিট করে। সংগঠন দুটির করা ওই রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত মাঠটি রক্ষায় ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে নির্দেশ দেন। ২০১১ সালের ১৫ মার্চ ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ধানমন্ডি খেলার মাঠ থেকে সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার আদেশ দেন উচ্চ আদালত। কিন্তু চার বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি আদালতের সেই নির্দেশনা। আর একে আদালত অবমাননার জঘন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব। তিনি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে রাষ্ট্র যে ব্যর্থ হয়েছে এটি তারও প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
জানা গেছে লে. শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেডের ১১ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাহী ও পরিচালনা পরিষদে সভাপতি হিসেবে রয়েছেন মঞ্জুর কাদের। অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহ আলম, নিটোল গ্রুপের চেয়ারম্যান মতলুব আহমেদ, রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান এল এ মুকুল। পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারমান এম এ হাশেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেলও এ পরিষদের প্রভাবশালী সদস্য বলে জানা গেছে।
প্রোব/শর/জাতীয়/ ২৮.০৩. ২০১৪

২৮ মার্চ ২০১৪ | জাতীয় | ১৫:৩৭:২১ | ২৩:০৮:৫৮

জাতীয়

 >  Last ›